বিশ্বের শ্রমবাজার এখন আর গতানুগতিক নেই, বরং প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় সাধারণ শ্রমিকের পরিবর্তে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সুনির্দিষ্ট পেশাগত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা বিশ্বজুড়ে আকাশচুম্বী। এই চাহিদা মাথায় রেখে দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে চায় সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নূর জানিয়েছেন, সরকারের বড় লক্ষ্য হলো প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এক কোটি দক্ষ কর্মী তৈরি করে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
বুধবার গোপালগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইলেকট্রিক্যাল, এসি মেরামত, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং ও কম্পিউটার পরিচালনাসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী কর্মী গড়ার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর আরও বলেন, এসব কেন্দ্র থেকে অর্জিত প্রশিক্ষণ কেবল বিদেশে যাওয়ার জন্যই নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরেও আত্মকর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা হিসেবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। তার মতে, প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গেলে কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমে যায় এবং কর্মীরা ভালো বেতন ও কাজের পরিবেশ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত না থাকলে বিদেশে টিকিয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে, যা মাথায় রেখেই প্রশিক্ষণে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রী যে লক্ষ্য স্থির করেছিলেন, সরকার বর্তমানে সেই পথেই এগোচ্ছে। সরকারের ২৩টি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মাধ্যমে বর্তমানে নানা ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মন্ত্রণালয় নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে এক কোটি দক্ষ কর্মীর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে।
গোপালগঞ্জের এই পরিদর্শনের পর বিকেলে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানেও অংশ নেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরির বিষয়ে উৎসাহিত করেন। নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে শ্রমবাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। চাকরির আরও তথ্য: এ সম্পর্কে ধারণা না থাকলে তারা সেখানে গিয়ে ভালো কাজ পাবে না, বেতন পাবে না এবং টিকতেও পারবে না।”।

















