চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নাসির পাটোয়ারী, তাঁর ছেলে শামীম পাটোয়ারী ও ফারুক আহমেদ রুনু পাটোয়ারী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। গত শনিবার ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কাছিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে জানা যায়, ২০০৪ ও ২০০৫ সালে কাদের পাটোয়ারী গং এবং জাহিদুল ইসলাম গংয়ের কাছ থেকে সিএস ২৭৭ ও বিএস ২২৪ দাগে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন নাসির পাটোয়ারী। পরে তিনি জমিটি তাঁর দুই মেয়ে নাসিমা বেগম ও আছিয়া বেগমের কাছে বিক্রি করেন। বর্তমানে ওই জমিতে টিনশেড দোকান রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার ফারুক আহমেদ রুনু পাটোয়ারী ওই জমি দখলের চেষ্টা করলে জমির ক্রয়সূত্রে মালিকরা বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নাসির পাটোয়ারী, তাঁর ছেলে শামীম পাটোয়ারী ও ফারুক আহমেদ রুনু পাটোয়ারী আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নাসির পাটোয়ারী ও শামীম পাটোয়ারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমিটি নাসির পাটোয়ারী কাদের পাটোয়ারী ও জাহিদুল ইসলাম গংয়ের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন বলে তাঁরা জানেন। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি তাঁর পরিবারের দখলে রয়েছে। জমির পেছনে গাছের চারা রোপণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বিষয়টির দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চান।
ফারুক আহমেদ রুনু পাটোয়ারী বলেন, ‘আমি ওই জমিতে গাছের চারা রোপণ করতে গেলে শামীম ও নাসির পাটোয়ারী আমার ওপর হামলা চালান। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এই জমি আমাদের বাবা ও দাদার।
অন্যদিকে, নাসির পাটোয়ারীর ছেলে শামীম পাটোয়ারী বলেন, আমরা ২০০৪ ও ২০০৫ সালে জমিটি ক্রয় করেছি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দখলে রয়েছে। তাঁরা যতবার মামলা করেছেন, মামলার রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। এখন তাঁরা জোরপূর্বক আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এরশাদুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















