চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪০ ভরি সোনা ছিনতাই এবং তা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কনস্টেবল জাকির হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অধীনে অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন এবং তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামে। অপর গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন মো. মোহাম্মদ আলী, যার বাড়ি সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের চক আলমপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি চরজোতপুর মহল্লায় বসবাস করেন এবং মামলার বাদী ব্যবসায়ী সালেহ সুলতানের (নিঝুম) দুলাভাই হন। ঘটনার পর রোববার আদালতে সোপর্দ করা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী সালেহ সুলতানের বাড়ি পৌর এলাকার চরজোতপ্রতাপ মহল্লায়। তিনি পেশায় একজন ট্রাভেল এজেন্ট এবং ধান-চালের মজুত ব্যবসার পাশাপাশি মাঝে মাঝে সোনা কেনাবেচা করে থাকেন। বাদী জানান, গত ৪ ও ৬ আগস্ট তিনি রাজশাহীর সাহেব বাজারের স্বর্ণপট্টিতে অবস্থিত ব্রাদার্স জুয়েলার্স থেকে ২০ ভরি করে মোট ৪০ ভরি সোনা কিনে নিজ বাড়িতে রাখেন। এরপর ৭ আগস্ট তিনি ভারতে ভ্রমণ করতে যান। যাওয়ার আগে তিনি তার দুলাভাই মোহাম্মদ আলীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন সংরক্ষিত এই ৪০ ভরি সোনা তার চাচা নজরুল ইসলামের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। অভিযোগমতে, ৮ আগস্ট বেলা তিনটার দিকে কালীনগর এলাকায় নজরুল ইসলামের কাছ থেকে কনস্টেবল জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল এই সোনা ছিনিয়ে নেয়। ওই দলে মোহাম্মদ আলী ও মামুন রেজাসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও একজন ছিল বলে জানা গেছে।
শনিবার বাদী নিজে বাদি হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় কনস্টেবল জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, মামুন রেজা ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসেইন জানিয়েছেন, মামলার পরপরই বিশেষ অভিযানে জাকির ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলীর কাছে থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি সোনা উদ্ধারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে মামলার বিষয়ে ব্যবসায়ী সালেহ সুলতান জানান, তার খালাতো ভাই একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং বৈধভাবে সোনা কেনাবেচার প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে, যা তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করবেন। এত বড় একটি ঘটনার পরও মামলা করতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে তার দুলাভাই মোহাম্মদ আলী থাকায় শুরুতে বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া ছিনতাইয়ে কারা জড়িত সেটির প্রমাণ জোগাড় করতেও কিছুটা সময় লেগেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজশাহী থেকে আনা এই সোনা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল কি না এবং বাদীর ব্যবসায়িক পরিচয়ের বৈধতা কতটুকু, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪০ ভরি সোনা ছিনতাই ও আত্মসাৎ করার অভিযোগে ১ জন পুলিশ সদস্যসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



