সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকার নতুন বেতন-ভাতা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এই নির্দেশনাটি ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ও ভাতায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বেতনকাঠামো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছিল।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পর্যায়ক্রমিক রূপরেখা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে বাড়তি সুবিধা পাবেন। এই হার গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। পরবর্তী ধাপে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা ৭৫ শতাংশ বাড়তি পাবেন। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে। নতুন এই কাঠামো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা বকেয়া বেতনের সুবিধাও পাবেন।
নতুন বেতন কাঠামোতে ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধি করা হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অন্যান্য সব ভাতা কার্যকর হবে এবং পেনশনভোগীরাও নতুন বেতনকাঠামোর পূর্ণ সুবিধা পাবেন।
উল্লেখ্য, নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই, যখন অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। এছাড়া বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। চাকরির আরও তথ্য: একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতনকাঠামোর যাবতীয় সব সুবিধা পাবেন।

















