ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের জাতিবিদ্বেষী রাজনীতির শিকার হয়ে আবারও সীমান্তে অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভারতের চারটি ভিন্ন রাজ্য থেকে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে মালদায় নিয়ে আসা হয়েছে, যাদের ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে পুশব্যাকের চেষ্টা চলছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ১৮ জনের মধ্যে ১৪ জনই নারী ও কিশোরী এবং বাকি চারজন পুরুষ। মূলত রাজস্থান থেকে ১০ জন, কেরালা থেকে তিনজন, তেলেঙ্গানা থেকে দুজন এবং মহারাষ্ট্র থেকে একজনকে এই প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই রাজ্যগুলোর কোনোটির সঙ্গেই বাংলাদেশের সরাসরি সীমান্ত না থাকলেও, তাদের প্রথমে রাজস্থানে জড়ো করা হয়। এরপর ট্রেনে করে হাওড়া হয়ে কঠোর পুলিশি পাহারায় মালদা স্টেশনে নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে তাদের মালদার ইংরেজবাজারের কাছে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। এর আগে চলতি মাসের ১ তারিখে বেঙ্গালুরু থেকে একইভাবে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করে মালদায় এনে পুশব্যাকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মালদায় পৌঁছানোর পর ওই ১৮ জনকে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও, ধৃতরা কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কিশোরী ও সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের মতো দেখাচ্ছিল, যারা সম্ভবত আগে থেকেই নীরব থাকার নির্দেশ পেয়েছিল।
ভারতের মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তারা দীর্ঘকাল ধরে দেশটিতে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে আসছেন। অথচ বিভিন্ন সময় বিশেষ তল্লাশি চালিয়েও এর কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উল্টো মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জোরালো অভিযোগ, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদেরই অনেক ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশি’ বা ‘রোহিঙ্গা’ ট্যাগ লাগিয়ে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পার করে দেওয়া হচ্ছে। অতীতে এমন অমানবিক পুশব্যাকের ঘটনায় অনেকের কান্নাকাটি ও ‘আমরা ভারতীয়, বাংলাদেশে আমাদের কেউ নেই’—এমন আর্তনাদের নজির রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে খোদ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে এমন ব্যক্তিদের পুনরায় ফেরত নিতে ভারত সরকার বাধ্য হয়েছিল।
মালদায় আটকদের তালিকায় রয়েছেন রিমা, শিউলা আক্তার, সোনিয়া আক্তার, মোসাম্মাৎ রাজিয়া বেগম, তসমিয়া ইসলাম ফারিয়া, মোসাম্মাৎ মাফুজা, আলফনিনা আক্তার, রোশনে আক্তার মিম, সোনিয়া খাতুন, রুমা আক্তার, স্মৃতি আক্তার, কুলসুম আক্তার, রুবিনা, আতিয়ার রহমান, নাসিমা আক্তার এবং তানিয়া সাদিক শেখ। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু প্রশাসন এখনও জানায়নি যে কোন সীমান্ত দিয়ে তাদের পাঠানো হবে। মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, পূর্বের অভিজ্ঞতার মতোই গভীর রাতে লোকচক্ষুর আড়ালে জঙ্গল বা ধানক্ষেতের পথ দিয়ে তাদের অবৈধভাবে পুশব্যাক করা হবে।
মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, আটককৃতদের মধ্যে যেহেতু বেশিরভাগই নারী, তাই যথাযথ নথিপত্র যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অবশ্যই মহিলা কমিশনের সদস্যদের উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু কোনো আইন বা আন্তর্জাতিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে, রাজনৈতিক স্বার্থে তাদের এভাবে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা চরম সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের জন্যও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিএসএফের কাজই যেন এখন কোনো আইন-কানুন বা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে মানুষ ‘পুশ-ইন’ করা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতের এই বেআইনি ও একতরফা পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই চরম ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ সরকার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের অলিখিত নিয়মই হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাংলায় কথা বললেই, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে দেওয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্প্রতি এমনই এক অমানবিক ও সন্দেহজনক ঘটনার সাক্ষী হলো পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু বাস্তবে উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের মতো জায়গাগুলোতে ‘সার’ (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) বা বিশেষ তল্লাশি চালিয়েও শত শত রোহিঙ্গা বা লাখ লাখ বাংলাদেশির কোনো হদিস তারা পায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মালদায় আনা এই ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রিমা (৩৪), শিউলা আক্তার (২৩), সোনিয়া আক্তার (২৮), মোসাম্মাৎ রাজিয়া বেগম (৩৪), তসমিয়া ইসলাম ফারিয়া (২২), মোসাম্মাৎ মাফুজা (২৪), আলফনিনা আক্তার (১৯), রোশনে আক্তার মিম (২৩), সোনিয়া খাতুন (২৪), রুমা আক্তার (৩৬), মিস স্মৃতি। 34, 23, 28, 22, 24, 19, 36, 25. প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই ১৮ জনকে নিয়ে ট্রেনটি যখন মালদায় পৌঁছায়, তখন খবর পেয়ে স্টেশনে হাজির ছিলেন সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাংবাদিকরা তাদের কাছে জানতে চান, তাদের বাড়ি কোথায়।

















