মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরশহরের লস্করপুর এলাকার বাসিন্দা দুই বোন হাবিবা ইসলাম ও আয়শা ইসলামের আদরের পোষা বিড়াল ‘মিরুশি’ চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। সাদা ও হালকা ধূসর রঙের সাত মাস বয়সী এই পার্সিয়ান জাতের বিড়ালটিকে খুঁজে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা। বিড়ালটির সন্ধানদাতাকে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে লস্করপুরসহ আশপাশের এলাকায় মাইকিং করেছেন দুই বোন। শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লস্করপুর এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী দুই বোন হাবিবা ইসলাম ও আয়শা ইসলাম ওই বিড়ালটি পুষতেন।
হাবিবা ইসলাম হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং ছোট বোন আয়শা ইসলাম সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। শৈশব থেকেই বিড়ালের প্রতি তাদের বিশেষ টান রয়েছে। বর্তমানে তাদের কাছে চারটি পার্সিয়ান ও চারটি দেশি জাতের বিড়াল রয়েছে। গত ৪ অক্টোবর তাদের বাসায় অতিথি আসার সময় প্রবেশ ফটক খোলা ছিল, ধারণা করা হচ্ছে সে সময় কোনো এক ফাঁকে ‘মিরুশি’ বাসা থেকে বাইরে বেরিয়ে গেছে। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর থেকেই তারা বিড়ালটিকে খুঁজে পাচ্ছেন না।
নিখোঁজ বিড়ালটির সন্ধানে হাবিবা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি জানান, ৪ অক্টোবর মিরুশি নিখোঁজ হওয়ার পর তারা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়েছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দার ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এক তরুণকে বিড়ালটি কোলে নিয়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। ওই ঘটনার সূত্র ধরে তারা এক আত্মীয়ের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেছেন, তবে সেখানে বিড়াল বহন করার বিষয়টি অস্পষ্ট রয়ে গেছে। তাতে বলা হয়, ৪ অক্টোবর তাঁদের পুরুষ বিড়াল ‘মিরুশি’ নিখোঁজ হয়। একবার তাঁদের বাবা রাগে বিড়াল দুটিকে বাড়ি থেকে দূরে ফেলে রেখে চলে আসেন।
বিড়ালটির খোঁজে দুই বোন কুলাউড়া বাসস্ট্যান্ডেও গিয়েছেন। সেখানে ব্যবস্থাপকের বরাতে তারা জানতে পারেন, ৫ অক্টোবর এক তরুণকে কাঁধে বিড়াল নিয়ে বাসে উঠতে দেখা গেছে। ওই সময় তরুণটি স্থানীয়দের কৌতুক করে বলেছিলেন, বিড়ালটি ‘শিক্ষিত’। এই তথ্যগুলো নিয়ে তারা এখন বেশ চিন্তিত। হাবিবা ও আয়শা জানিয়েছেন, বিড়ালটির সন্ধানে তারা কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সময় জিজ্ঞাসা করলে ওই তরুণ বাসস্ট্যান্ডের লোকজনকে রসিকতা করে বলেছেন, ‘এইটা শিক্ষিত বিড়াল।’।
ইতিমধ্যেই বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতব্বর জানান, তারা নিখোঁজ বিড়ালের ছবি ও দুই বোনের বিস্তারিত ঠিকানা সংগ্রহ করেছেন। বিড়ালটি উদ্ধারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই বিড়াল পুষে আসা দুই বোনের কাছে পোষা প্রাণীগুলো পরিবারের সদস্যের মতো। অতীতে বিড়াল হারিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতায় তারা যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেন, এবারও মিরুশিকে ফিরে পেতে তারা ব্যাকুল হয়ে আছেন। আজ দুপুরে দুই বোনের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়।
তাদের এই শখের পোষ্যদের যত্নে কোনো ত্রুটি রাখা হয় না। প্রতিদিন দুই বেলা সেদ্ধ মুরগির মাংস ও ভালো মানের ‘ক্যাটস ফিড’ নিয়মিত খাওয়ানো হয়। কুলাউড়ায় এই বিশেষ খাবার পাওয়া না যাওয়ায় তারা নিয়মিত সিলেট শহরে গিয়ে বিড়ালের খাবারের জোগান নিশ্চিত করেন। মিরুশিকে ফিরে পাওয়ার আশায় ফেসবুক পোস্ট ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে তারা এলাকাবাসীসহ সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।
















