চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের গত পাঁচ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল হোসেনের চাওয়া হিসাবের বিষয়ে লিখিত জবাব দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মতবিরোধ। এক পক্ষের দাবি, হিসাব-নিকাশ নিয়ে তোলা প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয়েছে; অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক কবির হোসেনের স্বাক্ষরিত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের লিখিত জবাবপত্রে ব্যাংক লেনদেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বিভিন্ন ফি, সরকারি বরাদ্দ এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের ব্যয় নিয়ে ১১টি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এসব হিসাবের নথি পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট লেনদেনের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
লিখিত জবাবপত্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন রেজিস্টার ও আয়-ব্যয় রেজিস্টারের মধ্যে হিসাবের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্নের কথা উল্লেখ রয়েছে। এতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেতন প্রদানের হিসাব লেখার সময় মাসের নাম ও টাকার পরিমাণে অসংগতি থাকার এবং কয়েক মাসের বেতন একসঙ্গে দেওয়ার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, টাকা জমা ও উত্তোলন, রামপুর পূবালী ব্যাংক শাখায় জমা দেওয়া অর্থ, দোকানভাড়া, শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অর্থ এবং সরকারি বরাদ্দের হিসাবও জবাবপত্রে স্থান পেয়েছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় রেজিস্টারের তথ্য মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট লেনদেন যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের আইপিএস ক্রয় ও স্থাপন, পিকনিক, অডিট, শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ তহবিল এবং সাবেক সভাপতির কাছ থেকে পাওয়া অর্থসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয়ের হিসাব নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা সেশন ফি, বেতন ও পরীক্ষার ফি ব্যাংকে জমা এবং পরবর্তী সময়ে উত্তোলনের হিসাব সংশ্লিষ্ট রসিদ ও ব্যাংক স্টেটমেন্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে ।
প্রধান শিক্ষকের লিখিত জবাবপত্রে হিসাবসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ১০ কর্মদিবস সময় চাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে মৌখিকভাবে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের কেরানি সাইফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি আমার ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাদের কাছে এর প্রমাণ রয়েছে। চাইলে বিষয়টি দেখতে পারেন।
হিসাব নিষ্পত্তি হয়েছে বলে দাবি অভিভাবক সদস্য শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়ার জন্য কমিটির সভাপতিকে দিয়ে এ কাজ করিয়েছেন। যেসব হিসাব-নিকাশ নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো মীমাংসিত। প্রধান শিক্ষকের সম্মানহানি করার জন্য এ কাজ করা হয়েছে। আমরা সবাই বসে হিসাব-নিকাশ করেছি এবং সেখানে যে বিষয়গুলো পাওয়া গেছে, সেগুলোর সমাধান হয়েছে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তিনি আমাকে বরখাস্ত করেছেন। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিদ্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আমি এটিকে সাধুবাদ জানাই। আমি চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হোক।
বরখাস্তের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কবির হোসেনের দাবি, অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সভাপতি চাইলেই তাঁকে বরখাস্ত করতে পারেন না।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল হোসেন বলেন, আমি নিয়ম মেনে উনাকে বরখাস্ত করেছি। আর্থিক বিষয় এখনো কোনো মীমাংসা হয় নাই। আমি ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি যাতে স্বাধীন তদন্ত কমিটির গঠন করে, তদন্ত করা হয়।













