আজ শুক্রবার দুর্গাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। সকালে দেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজার পর সন্ধ্যায় থাকছে আমন্ত্রণ ও অধিবাস। এবার দেবী দুর্গা ঘোটকে মর্ত্যে আগমন করছেন এবং গমন করবেন নৌকায়। আগামী বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এই ছয় দিনের সার্বজনীন উৎসব। আজ পূর্বাহ্ণ (সকাল) ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবী দুর্গার ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা হবে। হিন্দু শাস্ত্রমতে, শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্ত্যলোকে আজ আসছেন। দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হলেন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা। প্রতিমা সাদা পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, অসুর শক্তিকে বিনাশ করতে দেবগণের তেজরশ্মি থেকে দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় চলতি বছর সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন রয়েছে; আগামীকাল শনিবার ও রবিবার দুই দিনব্যাপী মহাসপ্তমী পালিত হবে। এরপর সোমবার মহাঅষ্টমী, মঙ্গলবার মহানবমী এবং বুধবার বিজয়া দশমী নির্ধারিত রয়েছে। বিজয়ার দিন বেলা তিনটায় সারাদেশে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। অসুর শক্তির কাছে পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হয়েছিলেন। অসুর শক্তির বিনাশে অনুভূত হলো এক মহাশক্তির আবির্ভাব।
উৎসব উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশের মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ও রমনা কালীমন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা স্থাপন শেষে আলোকসজ্জা এবং গেট নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়। এবার দেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের ৩২ হাজার ৩৫১টির তুলনায় বেশি। তবে ঢাকা মহানগরে এবার পূজার সংখ্যা কিছুটা কমে ২৫৮টিতে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছর ছিল ২৬১টি। মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সরেজমিন গতকাল দেখা যায়, দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।
পূজার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলা অঙ্গনে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। সেখানে লিখিত বক্তব্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইল জেলায় প্রতিমা ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ফরিদপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী কালীমন্দিরে চুরি, সুনামগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে লুটপাট এবং নওগাঁয় ভুয়া গোয়েন্দা পরিচয়ে ডাকাতির খবর পাওয়া গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অনেক দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করেছে বলে তিনি জানান।
মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সারাদেশে পূজা উপলক্ষ্যে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে বিজিবি প্রস্তুত বলে নিশ্চিত করেছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
পাশাপাশি দেশজুড়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিপুল পরিমাণ আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আনসার-ভিডিপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানান, দুর্গোৎসবে সার্বিক নিরাপত্তায় সারাদেশে ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।















