নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বর্তমান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারত সরকার তার নিয়োগের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। অক্টোবরের তৃতীয় অথবা চতুর্থ সপ্তাহের মধ্যে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য দিল্লি রওনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত জুলাই মাসে আসাদ আলম সিয়ামকে ওই পদে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠিয়ে ঢাকা থেকে এগ্রিমো চাওয়া হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে প্রায় তিন মাসের মাথায় ভারত সরকার এই অনুমোদন প্রদান করল। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। ঢাকায় ফিরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেই তিনি ভারত যাত্রার প্রস্তুতি নেবেন।
চলতি বছরের ২০ জুন পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আসাদ আলম সিয়াম। প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ১৯৯৫ সালে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদান করেন। সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায় ও বর্তমান সরকারের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আমলা হিসেবে কাজ করেছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একই সময়ে গায়ানায় অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ও বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিলেন। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একই সময়ে হাঙ্গেরি ও স্লোভেনিয়ায় অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এছাড়া ভিয়েনায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও ওপেক ফান্ডে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ফিলিপাইনে রাষ্ট্রদূত ছিলেন এবং পালাউয়ে অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাকার্তা, ব্যাংকক ও ম্যানচেস্টারে বিদেশি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগের মহাপরিচালক, প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তা, মিশনগুলোর মহাপরিদর্শক ও ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিবের দপ্তরে পরিচালক পদেও দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে, আসাদ আলম সিয়ামের দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পাশাপাশি বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। আগামী ১০ অক্টোবর তার দায়িত্বকাল পূর্ণ হবে। তিনি ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং একই বছরের ২৯ মে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। দিল্লি থেকে দায়িত্ব শেষ করার পর তিনি জেনেভায় জাতিসংঘ দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রিয়াজ হামিদুল্লাহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দিল্লিতে নিয়োগ পেলেও বর্তমান সরকার তাকে বহাল রেখেছিল। প্রায় দেড় বছর দিল্লিতে দায়িত্ব পালনের পর অক্টোবরে তিনি চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে ১৫ মাস: আসাদ আলম সিয়াম ২০২৫ সালের ২০ জুন পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব নেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।

















