জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই পাঠ্যপুস্তকে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন পাঠ্যবইগুলোতে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্সের ইতিহাস, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলি এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি নিবন্ধও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
ইতিহাসের পাশাপাশি বাংলা এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েও নতুন বিষয়বস্তু যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট চারটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী এবং অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ব্রিগেড ফোর্স বিষয়ক লেখা রাখা হচ্ছে। এছাড়া নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি যুক্ত করা হচ্ছে।
ইতিহাসের বর্ণনার গভীরতা শ্রেণি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বইয়ে তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত আকারে এবং নবম শ্রেণির বইয়ে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘তৃতীয় ভাষা’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ যুক্ত হচ্ছে, যার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার গুরুত্ব জানানো। আইসিটি বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ক আধুনিক তথ্য যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির বিবর্তনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
নতুন যুক্ত হওয়া চারটি বইয়ের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বই দুটি থাকছে। ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইটিতে প্রযুক্তি পরিচিতি, উদ্যোগ, ভবিষ্যৎ পেশা ও টেকসই জীবনযাপনের মতো বিষয়গুলো রাখা হয়েছে। ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বইটিতে মূল্যবোধ, পুষ্টি, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ নামে দুটি বই। ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটিতে সংস্কৃতির ধারণা, জাতীয় ও সামাজিক উৎসব এবং একুশে ফেব্রুয়ারির মতো গুরুত্বপূর্ণ দিবসের তাৎপর্য ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। ‘খেলাধুলা’ বইটিতে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, কাবাডিসহ মোট আটটি খেলার নিয়ম ও কৌশলের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বোঝার সুবিধার জন্য এসব বইয়ে ইলাস্ট্রেশন বা চিত্র-অলংকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চারটি বই মিলিয়ে মোট ৭১০টি ছবি থাকবে, যার মধ্যে শুধু ‘খেলাধুলা’ বইয়েই তিন শতাধিক ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
২০২৮ সালে শিক্ষাক্রমে ব্যাপক পরিমার্জনের পরিকল্পনা থাকলেও তার আগেই বিদ্যমান পাঠ্যবইগুলো ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বর্তমানে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রম অনুসরণ করা হচ্ছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২২ সালের শিক্ষাক্রম বাতিলের পর পুনরায় চালু করা হয়। আগামী শিক্ষাবর্ষের নতুন চারটি বিষয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হবে না; বরং ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাই করা হবে।
নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে ২২ কোটির বেশি এবং প্রাথমিক স্তরে ৮ কোটি ২০ লাখ কপি বই থাকবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার দায়িত্ব পেয়েছে ৫২টি প্রতিষ্ঠান এবং মাধ্যমিক স্তরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৭৬টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান।
বই ছাপার অগ্রগতি সম্পর্কে এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিকের প্রায় ২১ শতাংশ বইয়ের প্রাক-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৮ শতাংশের বেশি বই সরবরাহ করা হয়েছে। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের জানান, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজ চলছে এবং নির্ধারিত সময় ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই মূল ছাপার কাজ শেষ করে বই মাঠপর্যায়ে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও নতুন চারটি বইয়ের কাজ শেষ হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে, তবুও ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এনসিটিবি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়েও বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে শিক্ষাক্রম বাতিল করলেও তারা নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত রোববার এনসিটিবিতে গিয়ে দেখা গেছে, বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নতুন চারটি বইয়ের বিষয়বস্তু যাচাইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এ বইয়ের অন্যতম লক্ষ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কয়েকটি অধ্যায়ে বইটির বিষয়বস্তু সাজানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অধ্যায়গুলো হলো কারিগরি শিক্ষা পরিচিতি, চারপাশের প্রযুক্তি ও নতুন বিশ্ব, যারা বানায় তারাই পৃথিবী বদলায়, সমস্যা ও সমাধান করি, ছোট উদ্যোগ বড় সম্ভাবনা, ভবিষ্যৎ পেশা ও দক্ষতা, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপন এবং শব্দকোষ।

















