বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা ঢাকার ওপর নেই। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন যে, ব্রাসেলস সবসময় আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। এর অর্থ এই নয় যে, তারা সবকিছু চোখ বুজে মেনে নেবে, তবে তারা কখনো এমন কোনো শর্ত আরোপ করে না যাতে ওয়াশিংটনের বিপরীতে ব্রাসেলসকে বেছে নিতে হয়। ফ্রান্স সবসময় ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করে থাকে।
ফ্রান্স ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়া সত্ত্বেও দেশগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। কোনো জোটের সদস্য হওয়া মানেই নিজের স্বাধীনতার ক্ষমতা বিসর্জন দেওয়া নয়। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টিকে তিনি ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গোলের ন্যাটো-নীতি দিয়ে ব্যাখ্যা করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে পরস্পরবিরোধী জোটের লড়াই বা ‘পশ্চিম বনাম পূর্ব’ কিংবা ‘উত্তর বনাম গ্লোবাল সাউথ’-এর মতো বিভাজনের দৃষ্টিতে দেখে না। কোনো সামরিক জোটে থেকেও একটি দেশ নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বজায় রাখতে পারে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
রাফাল যুদ্ধবিমান বিক্রির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ফ্রান্স যখন কোনো দেশকে এই যুদ্ধবিমান দেয়, তখন সেটির নিয়ন্ত্রণ ও ‘চাবি’ সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের হাতেই থাকে। ফ্রান্স সেই দেশের হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয় না কিংবা তাদের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে না; বরং ওই দেশ নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সম্মান বজায় রেখে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে ফ্রান্স তাদের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ধারণাটি ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ বিবৃতিতে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছিল। ওই যৌথ ঘোষণায় সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে একটি স্থিতিশীল ও বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা গঠনের অপরিহার্য নীতি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত ও গভীর সহযোগিতাকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

















