আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আফগান কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলার একটি বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে একই পরিবারের তিন সদস্য প্রাণ হারান এবং পরিবারের আরও চারজন গুরুতর আহত হন।
ফিতরাত আরও জানান, কুনারের পাশাপাশি পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলার রাখাহ ও তোর কুন্দি এলাকায় দুটি পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় একটি দোকান ও একটি খালি বাড়ি ধ্বংস হলেও সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। যদিও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, তবে পাকিস্তানের দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে দাবি করেছেন যে, এই অভিযানে সন্দেহভাজন ২৮ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। অবশ্য এই দাবির সপক্ষে কোনো স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
সীমান্তবর্তী দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এই নতুন হামলা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের সীমান্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের পর থেকে সম্পর্কের টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হামলা চালাচ্ছে, তবে তালেবান সরকার বরাবরের মতো এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে আসছে। সাম্প্রতিক হামলার ঠিক আগে পাকিস্তানের কোহাট ও হাঙ্গুতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে বেশ কয়েকজন পুলিশ ও সেনা সদস্য নিহত ও আহত হন।
এর আগে জুলাই মাসে পাকিস্তান দাবি করেছিল যে, তারা আফগানিস্তানের পাঠানো বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এছাড়া গত মার্চে কাবুলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। পাকিস্তান সেই দাবি অস্বীকার করে জানায়, তাদের লক্ষ্য ছিল কেবল সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী অবকাঠামো। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তানের আকাশসীমায় ৪২২টি যুদ্ধবিমান ও ২৬০টির বেশি হেলিকপ্টার থাকলেও আফগানিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান নেই; তাদের কাছে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ছয়টি বিমান, ২৩টি হেলিকপ্টার ও কিছু ড্রোন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুই দেশের বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ পাকিস্তানে সশস্ত্র হামলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত শুক্রবার কোহাটে একটি পুলিশ কম্পাউন্ডে হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় তিন মাস তুলনামূলক শান্ত থাকার পর নতুন করে এ হামলায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে জুলাইয়ে আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল বলে ইসলামাবাদ দাবি করে।

















