দেশে বিগত নয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় ২৬০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, এই সময়ে ১৯৬টি গণপিটুনির ঘটনায় ৪০১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১ হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনায় ৭৩ জন নিহত এবং ৬ হাজার ৪৭৩ জন আহত হয়েছেন। এই সংঘাতগুলোর ৯১ শতাংশই ছিল বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংঘর্ষের ফল। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সভায় এসব পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি গভীর শঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, বিগত নয় মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে গণপিটুনি ও রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৬০ জন মানুষ মারা গেছেন।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, সরকারের শক্তিশালী অবস্থান, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা থাকলে এত বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি ঘটত না। দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মহাসচিবের ভাষ্যমতে, এই নয় মাসের অধিকাংশ সময়ই রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি ছিল, ফলে এই পরিস্থিতির দায়ভার তাদের ওপরই বর্তায়।
এমপি-মন্ত্রীদের ব্যর্থতার দায়ে পদত্যাগ বা তাদের পদত্যাগে বাধ্য করার যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, সেটিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বরত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
দলীয় ওই সভায় দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা নেছার উদ্দিন ও শাহ ইফতেখার তারিক। এছাড়া সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান ও মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ূম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলানা মানসুর আহমাদ সাকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, মাওলানা খলিলুর রহমান, প্রকৌশলী শেখ মারুফ এবং অধ্যাপক নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নেন।

















