নিজস্ব প্রতিবেদক:
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম পর্যায়ের ফল আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার পর প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ভর্তির ফলাফল দেখতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন সম্পন্ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
ভর্তি কার্যক্রমের সূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় পছন্দক্রমের ভিত্তিতে মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে। ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। আর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
অনলাইনে আবেদন ও ভর্তির নিয়ম
চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয় ২ সেপ্টেম্বর। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসরণ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা।
একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত।
নীতিমালা অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বছর এবং আগের দুই বছরের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ
এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগ ছাড়াও পরস্পরের বিভাগে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এ ছাড়া সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তি হতে পারবেন।
সংরক্ষিত আসন ও মেধাক্রম
ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি কলেজের ৯৩ শতাংশ আসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরতদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে ওই আসন পূরণ করা হবে। এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।
সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্ধারিত বিষয়ের নম্বর পর্যায়ক্রমে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ভর্তি ফি নির্ধারণ
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও সেশন চার্জের সর্বোচ্চ সীমা এলাকা ও মাধ্যমভেদে নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা, অন্যান্য মহানগরে ৩ হাজার, জেলা সদরে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।
নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাধ্যম ও এলাকার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরে বাংলা মাধ্যমে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া যাবে।
প্রাথমিক নিশ্চায়নে বোর্ড ফি ৩৪০ টাকা
ভর্তি নিশ্চায়নের সময় শিক্ষার্থীদের বোর্ডকে মোট ৩৪০ টাকা ফি দিতে হবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন, ক্রীড়া, বিএনসিসি, রোভার/রেঞ্জার, রেড ক্রিসেন্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু বা শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি বা এমপিওভুক্তি বাতিলসহ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।












