কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ১০টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলার মাধবদী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশ থেকে রেনু মিয়াকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময়ও তাঁর দুই হাতে হাতকড়া লাগানো ছিল। রেনু মিয়া ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মাধবদী গ্রামের প্রয়াত ইল্লাল মিয়ার ছেলে। চব্বিশের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গতকাল সোমবার দুপুরে। দুপুর ১২টার দিকে কুলিয়ারচর থানার এসআই মো. শারফিন মিয়ার নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি পুলিশ দল রেনু মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ রেনুকে ঘরের ভেতরেই হাতকড়া পরায় এবং বাইরে বাড়ির উঠানে নিয়ে আসে। এ সময় স্থানীয় লোকজন, বিশেষ করে নারীদের একটি বড় দল সেখানে জড়ো হয়। প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন নারীসহ স্থানীয়রা রেনুকে ঘিরে ফেললে পুলিশের সঙ্গে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রেনু মিয়া হাতকড়া পরা অবস্থাতেই দৌড়ে পালিয়ে যান। পুলিশ তাঁর পিছু নিলেও বাড়ির পেছন দিয়ে তিনি দ্রুত নিখোঁজ হয়ে যান।
রেনু মিয়া পালানোর পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলে। পুলিশ জানায়, রেনুকে খুঁজে বের করতে সাদা পোশাকে এবং মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযান চালানো হয়। গ্রাম ছেড়ে তাঁর পক্ষে পালানো কঠিন হবে এমন ধারণা থেকে পুরো এলাকা তল্লাশি করা হয়। তবে রেনুকে দ্রুত বাগে আনতে পুলিশ নতুন একটি কৌশল গ্রহণ করে। তাঁর বড় মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের সাত সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওই সাতজনের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ তিনজন মা ছিলেন যাদের সঙ্গে শিশুসন্তানও ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, পুলিশের কৌশল সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর রেনু মিয়া চাপের মুখে পড়েন। তাঁর কাছে মুঠোফোন না থাকায় পরিবারের সদস্যদের আটকের খবর তিনি জানতেন না। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে যখন জানতে পারেন যে পরিবারের সদস্যদের থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের আসামি করা হতে পারে, তখন তিনি ধরা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রেনু মিয়া সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন যে, বাড়িতে পুলিশ দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় পালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের কথা ভেবেই তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
কুলিয়ারচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোবারক হোসেন জানান, রেনু মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে—একটি উপজেলা বিএনপির কার্যালয় পোড়ানোর ঘটনায় এবং অন্যটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়েরকৃত। দুটি মামলাতেই তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। রেনুর বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত হয়নি তবে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া থানায় আটক রাখা পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে মামলার আসামি করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
রেনু মিয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রমেও নিয়মিত অংশ নিতেন। সম্প্রতি স্থানীয় এক বিএনপির নেতার সঙ্গে বিরোধ এবং এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন। এসআই শারফিন মিয়া জানান, রেনুকে গ্রেপ্তারে তারা মরিয়া ছিলেন এবং একাধিক কৌশলের মাধ্যমে প্রায় ১০ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে পুনরায় আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে পালালেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা, ধরে নেওয়া হলো ৭ স্বজনকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রেনুকে পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দিতে গ্রামবাসীর কাছে সহযোগিতা চায় পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ জন্য তাঁকে গ্রামের মধ্যেই খোঁজা হচ্ছিল।












