আবহাওয়া অনুকূলে থাকা ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের সুবাদে এবার চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাট কাটার পর এখন আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এলাকাটির নদ-নদী ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাট জাগ দিতেও তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি তাদের। স্থানীয় কৃষি অফিস জানিয়েছে, এবার উপজেলায় মোট ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ এবং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার ফলেই এমন সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন।
বাজারে পাটের সন্তোষজনক চাহিদা ও দাম নিয়ে বেশ উৎফুল্ল স্থানীয় কৃষকরা। জীবননগর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাটচাষি শিপন জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তার প্রত্যাশা, প্রতি বিঘা থেকে ১০ মণ করে পাট পাওয়া যাবে। জসিম নামে আরেক চাষি জানান, বর্তমানে নদীতে জাগ দেওয়া পাটগুলো পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে খুব শীঘ্রই বাজারে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, পাটের পাশাপাশি পাটখড়িরও ভালো চাহিদা রয়েছে। অনেকের কাছে পাটখড়ির আঁটি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কেউ কেউ জলাশয়েই পাট পরিষ্কার করার সময় পাটখড়ি নিয়ে যাচ্ছেন, যা তাদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনছে এবং লাভের পরিমাণ বাড়াচ্ছে।
জীবননগর স্থানীয় বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতিমণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মান ও রঙের ওপর নির্ভর করে পাটের দাম আরও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাড়তি আয় হিসেবে পাটের পাটখড়ি প্রতি মণ ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে পাটের ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় কৃষকদের মুখে এখন হাসির রেখা ফুটে উঠেছে। সামগ্রিক উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় তারা এই লাভজনক মৌসুমে বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এলাকার নদনদী ও জলাশয়ে পানি রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন নদীতে জাগ দেওয়া আছে, অল্প দিনের মধ্যেই পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে বাজারে তুলব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে আমাদের পাটের উৎপাদন খরচও কমছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যার ফলে পাটের সঙ্গে চাষিদের পাটখড়ি বিক্রয় করে বাড়তি আয় হচ্ছে।











