কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রয়াত বিএনপি নেতা মো. সাইফুল ইসলামের বিধবা স্ত্রী ঝুমা আক্তারকে দেওয়া সেলাই মেশিনটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সূত্রপাত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি উপহারটি ফেরত দিতে বাধ্য হন। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে বনগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর জামষাইট গ্রামে অবস্থিত তার বাড়ি থেকে বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী ওই সেলাই মেশিনটি ফেরত নিয়ে যান। এ সময় বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, সাইফুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার পরিবার আর্থিক সংকটে পড়লে তাকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে তার বাড়িতে গিয়ে সেলাই মেশিনটি উপহার দেওয়া হয়েছিল। তখন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বনগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আবু ইছা, প্রচার সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী, পেশাজীবী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপহার পাওয়ার সময় ঝুমা আক্তার জামায়াতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। এ বিষয়ে ঝুমা আক্তার জানান, তিনি বিএনপি পরিবারের সদস্য এবং তার স্বামী দলের ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। শুরুতে তিনি বুঝতে পারেননি যে এটি জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, বরং তিনি ভেবেছিলেন স্বামীর বন্ধু ইদ্রিস আলী ব্যক্তিগতভাবে এটি উপহার দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগায় তারা এটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জামায়াত নেতা মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, পরিবারটি বিব্রত বোধ করায় তারা মেশিনটি ফেরত দিয়েছে, তাই তিনি সেটি গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে, কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসানের দাবি, তারা জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবেই সহায়তা করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, ঝুমা আক্তার দলের চাপে এটি অস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি জানার পর এখন সহায়তায় এগিয়ে আসছেন, যা ইতিবাচক।
এদিকে, বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, প্রয়াত সাইফুল ইসলামের পরিবারের সহায়তায় বিএনপি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে পরিবারটিকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে এবং গভীর নলকূপ, স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও ঘর নির্মাণের পাশাপাশি ঝুমা আক্তারের চাকরিরও ব্যবস্থা করা হবে।

















