গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচারের নিশ্চয়তা দিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে তিনি নিহতের কবর জিয়ারত করতে গুরুদাসপুরে যান। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বাংলার মাটিতেই শাকিল হত্যার বিচার হবে। কাউকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়নি, অপরাধী যে-ই হোক না কেন তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন যে, এ ঘটনায় কোনো প্রকার ভাঙচুর বা অস্থিরতা সৃষ্টি করা যাবে না। আজ কবর জিয়ারতের সময় ওর মুখটিই বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল।”।
কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী শাকিলের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় তার সাথে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব, নাটোর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আসাদুজ্জামানসহ দলীয় ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শাকিলের মৃত্যুর পর থেকে গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নাটোর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলাটি এরই মধ্যে থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গুরুদাসপুর থানার ওসিবও স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। এ সময় তার সাথে নাটোর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান চৌধুরী ও মিজানুল হক ডিউক, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব, সিনিয়র। এদিকে শাকিল হত্যা মামলায় নাটোর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর জড়িত থাকার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামের মানুষ। ইতোমধ্যে মামলাটি থানা থেকে গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের ভাষ্যমতে, গত ১৪ অক্টোবর রাতে চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হেলমেট পরা একদল দুর্বৃত্ত শাকিলকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার রাত ৮টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শাকিলের বাবা রবিউল অভিযোগ করেন যে, পুলিশ মামলার এজাহারে অভিযুক্তদের মূল নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। এছাড়া চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জীবননাশের আশঙ্কায় যে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল, সেই নথিপত্রও থানা থেকে রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে বলে পরিবারের দাবি। আমি শাকিলকে ঢাকায় হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। শাকিলের স্বজনদের অভিযোগ, হামলার পর ১২ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ শুরুতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
প্রতিমন্ত্রীর সফরের আগে ও পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তাদের স্লোগানে উঠে আসে, শাকিল কবরে কেন, খুনি কেন বাইরে। বিচারের দাবিতে সরব স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটাই দাবি—প্রশাসন কেন নীরব। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রতিমন্ত্রী পুতুল জানান, বিষয়টি নিয়ে সরকারের নজর রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা যেন ভিন্নখাতে প্রবাহিত না হয়, সেদিকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা যেন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত না হয়, সে চেষ্টা থাকবে আমাদের।”। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনো উত্তপ্ত রয়েছে এলাকা।

















