বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও মজবুত করতে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আলজিয়ার্সে আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এই বৈঠকে জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রধান্য পেয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং আলজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
বৈঠকে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ছাড়াও কৃষি, সার, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের জনগণের কল্যাণে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর জোর দেন তিনি। এর পাশাপাশি জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞানবিনিময় এবং যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর জন্য আলজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই সমঝোতা স্মারকের ফলে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) আলজেরিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির একটি নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে উন্নত প্রযুক্তি ও উত্তম চর্চা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তিনি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক জোরদার করতে অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পারস্পরিক পরিপূরক সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

















