পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৫ হাজার টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এক এতিম শিশুকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জিসান হোসেন স্থানীয় তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার পরিবারের দাবি, গত ১৭ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে তাকে ধরে নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে পেটানো হয় এবং পায়ে শিকল পরিয়ে গোয়ালঘরে আটকে রাখা হয়। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে তার বিধবা মা নাজমা বেগমও একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার পর মা ও ছেলেকে তিন দিন বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। সোমবার রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে তারা মঙ্গলবার ভোরে কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, মা ও ছেলের শরীরে আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের মামলার বিষয় বিবেচনায় তিনি আঘাতের চিহ্নগুলো লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।
নির্যাতনের ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার ও তার ভাই আব্দুল হাই তালুকদারের নাম উঠে এসেছে। নাজমা বেগমের ভাষ্যমতে, প্রায় দেড় বছর আগে তার স্বামী বাচ্চু হাওলাদার মারা যান। মৃত্যুর পূর্বে তিনি আব্দুল হাই তালুকদারের কাছে জমি কেনার জন্য ১ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত না দেওয়া এবং জমি না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী জিসান জানায়, মারধরের সময় সে প্রস্রাব করে ফেললেও নির্যাতনকারীরা থামেনি। জিসানের ছোট বোন মুন জানায়, বাড়িতে তারা চিকিৎসার সুযোগ পাননি। এদিকে অভিযুক্তদের প্রভাবের ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসা স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা জানান, সোমবার রাতে পালিয়ে এসে তারা তার কাছে আশ্রয় নেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নু দাবি করেন, জিসান তাদের বাড়ি থেকে মানিব্যাগ চুরি করেছে। তার ভাই আব্দুল হাই তালুকদারও ছেলেটিকে চোর আখ্যা দিয়ে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে জিসানের মায়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে আব্দুল হাই বলেন, তাদের জমি চাষ করতে দেওয়া হয়।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। তবে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছেলেকে আর না মারার অনুরোধ করলে তাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মুনের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস করেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খবর পেয়ে তিনি সেখানে গেলে তার সামনেই ছেলেকে আবার মারধর করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাড়িতে তারা যন্ত্রণায় কাঁদতেন এবং আল্লাহকে ডাকতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিষয়টি জানার পর প্রথমে তিনিও ভয় পেয়েছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে আহত দুজনের অবস্থা দেখে মঙ্গলবার ভোরে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে তার পরিচয় প্রকাশ পেলে সমস্যায় পড়তে পারেন বলে জানান তিনি।

















