চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কাটার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার, হয়রানি ও জমি দখলের পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এমনই একটি ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলার ৬ নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন এলাকার এক ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন। জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য সম্প্রতি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমিটি মাপজোপ করা হয়। এ সময় পাশের জমির মালিক নুরু মিয়ার সঙ্গে সীমানা ও জমি দখল নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শাহাদাত হোসেনের অভিযোগ, নুরু মিয়া তার জমির একটি অংশে বিভিন্ন ধরনের গাছপালা রোপণ করেছিলেন। জমি মাপজোপের পর ওই গাছগুলো রাতের আঁধারে কে বা কারা তুলে ফেলে দেয়। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই নুরু মিয়া গাছ কাটার ঘটনায় ভূমিক কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে অপবাদ দিচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে তিনি সামাজিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি মাপজোপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে গাছ কাটার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বর্তমানে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
অভিযোগের বিষয়ে নুরু মিয়া বলেন, ‘আমি ৪ বছর আগে জমি কিনেছি। শাহাদাত মিয়া আমাকে না জানিয়ে কেন আমার জমির পাশে জমি কিনেছেন এটা তার প্রশ্ন। এবং শাহাদাত কেন তাকে না জানিয়ে জমি মাপজোপ করেছেন এটাও তার প্রশ্ন। তিনি আরও বলেন, জমির সীমানা নির্ধারণে যেখানেই শাহাদাত সীমানা দিয়েছে তা আমি মেনে নিলাম, কিন্তু সাহাদাত কেন নুরু মিয়াকে না জানিয়ে গাছ তুলে নিয়েছেন তার জন্য তিনি বিচার চেয়েছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত মিয়া বলেন, আমি যে সাড়ে তিন শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেছি এ সম্পত্তির মালিক সাইফুল ইসলাম। এবং উক্ত সম্পত্তি সাইফুল ইসলাম বিক্রি করতে গেলে কেউ কিনে না বিধায় পরে আমাকে রিকুয়েস্ট করলে‘আমি এ সম্পত্তি কিনে নেই। এবং সম্পত্তি বুঝে নেওয়ার জন্য একজন সার্ভেয়ার ও আমি নিজে আমার পাশের জমির মালিক নুরু মিয়াকে উপস্থিত থাকার জন্য বলি। এবং মাপজোপের সময় নুরু মিয়া উপস্থিত না থাকলেও তার ছেলে শাহাদাত হোসেন এবং নুরু মিয়ার ভগ্নিপতি সাবেক মেম্বার আব্দুল মান্নান মাস্টার উপস্থিত থেকে সীমানা নির্ধারণ করে দেন। এবং এ সময় দেখা যায় আমার জমির একটি অংশ তার দখলে পড়ে যায়। পরে তার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও তার ভগ্নিপতি আব্দুল মান্নান মাস্টার সঠিক স্থানে সীমানা নির্ধারণ করে আমার সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়। মাপজোপের পর নুরু মিয়া আমাকে জমি ছেড়ে দিতে হয়েছে বলেই তিনি বর্তমানে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন। এবং তিনি নিজের গাছ নিজেই তুলে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, আমার জমির অংশে আমার রোপন কৃত কয়েকটি কদম গাছ ছিল। যাহা দিবালোকে অনেকের সামনে নুরু মিয়া সে গাছ গুলো কেটে নেয়। এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার গাছের গোড়াকে দেখিয়ে তার গাছ কেটেছে বলে প্রচার করা হয়। ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, আমি এলাকায় একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবেই চলাফেরা করি। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য নুরু মিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা বানোয়াট তথ্য প্রচার করছে। নুরু মিয়ার এসব মিথ্যা বানোয়াট কথার জন্য তিনি আল্লাহর কাছে বিচার চান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান কালু মিয়া বলেন, ‘আমি এবং সার্ভেয়ার ও নুরু মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন এবং নুরু মিয়ার ভগ্নিপতি সাবেক মেম্বার মান্নান মাস্টার সহ আরও কয়েকজনের উপস্থিতিতে জমিটি মাপজোপ করে সিমানা নির্ধারণ করে দিয়েছি। এখন তারা গাছ নিয়ে ঝামেলা শুরু করেছে। বিষয়টি কোনো বড় সমস্যা নয়।’এটা একটা তুচ্ছ ঘটনা।
গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘উক্ত বিষয়ে আমার কাছে মৌখিকভাবে জানিয়েছে । আমি নুরু মিয়াকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। কিন্তু তিনি এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেননি।’
জমি ও গাছ কাটার বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

















