শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর প্রতিটি পূজামণ্ডপে। প্রিয়জন ও স্বজনদের নিয়ে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা মেতে উঠেছেন প্রতিমা দর্শন আর প্রার্থনায়। ঢাকের বাদ্য আর পূজার গানের সুরে প্রতিটি মণ্ডপ হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর। বিশেষ করে বিকেল গড়াতেই কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনসহ বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। কেউ রিকশা, সিএনজি কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে, আবার কেউ মেট্রো রেলে ফার্মগেট নেমে হেঁটে মণ্ডপে পৌঁছাচ্ছেন।
চলতি বছর সপ্তমীর তিথি দুই দিনে পড়ায় পূজার আয়োজনে কিছুটা ভিন্নতা ছিল। খামারবাড়ির মণ্ডপে গত শনিবারই মহাসপ্তমীর আচার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুরোহিত অবিনাশ চক্রবর্তী। তিনি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মণ্ডপে টানা ৩৬ বছর ধরে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা পালন করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘মায়ের কাছে আমাদের প্রার্থনা, তিনি যেন পৃথিবীর সবাইকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখেন। মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হোক।’
আজ মহাষ্টমী। এই দিনের মূল আকর্ষণ হিসেবে রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে কুমারীপূজা। এছাড়া ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে সন্ধিপূজা সম্পন্ন হবে এবং দুপুরে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।
মণ্ডপের প্রতিটি আঙিনা এখন আনন্দ আর ভক্তিমিশ্রিত এক পরিবেশে রূপ নিয়েছে। প্রতিমা দর্শন শেষে অনেককে পরিবারের সাথে সেলফি তুলতে বা ছবি তুলতে দেখা যাচ্ছে। শিশুদের পূজার গানের তালে নেচে বেড়ানোর দৃশ্য উৎসবের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। ধামরাইয়ের বণিক বাড়ি থেকে আসা দেবাদৃতা কর্মকারের মতো খুদে দর্শনার্থীরা দুর্গার প্রতিমা দেখে দারুণ উচ্ছ্বসিত। সন্ধ্যার পর ঢাকের বাদ্যি আর আরতির আলোয় উৎসবের আমেজ পূর্ণতা পায়, যা দর্শনার্থীদের আনন্দকে করে তোলে দ্বিগুণ।

















