সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন শেষ করে নিজ দেশে ফেরার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধান সিরিল রামাফোসা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) একটি তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশটির সরকারি এই ফ্যাক্টচেক উইং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দুই বিশ্বনেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়ানো এই তথ্যগুলো সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং বিভ্রান্তিকর। একই সঙ্গে এ ধরনের ক্ষতিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
গুজবের সূত্রপাত ও সত্যতা
সোশ্যাল মিডিয়ার বেশ কিছু হ্যান্ডেল থেকে দাবি করা হয়েছিল, ভারত ত্যাগ করার সময় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাঁটতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল। এমনকি বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পরপরই তাকে তড়িঘড়ি করে স্থানীয় ৩০১ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও প্রচার করা হয়। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো ধরনের বাস্তব বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। সম্মেলনে শি জিনপিং তার পূর্বনির্ধারিত প্রতিটি কর্মসূচিতে স্বাভাবিকভাবে অংশ নেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন করেন। ইন্টারনেট জগতে ছড়িয়ে পড়া তার অসুস্থতার কিছু ছবি ও ভিডিও মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অথবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করা।
অনুবাদ যন্ত্র ও মোদির বক্তব্য
সম্মেলনের প্রথম দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার সময় শির দিকে তাকিয়ে ‘ইজ ইট ওকে?’ বা ‘সব ঠিক আছে তো?’ বলে জানতে চেয়েছিলেন। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে চীনা প্রেসিডেন্টের অসুস্থতার প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, মোদির প্রশ্নটি শি জিনপিংয়ের কানে থাকা অনুবাদ যন্ত্রটির (ট্রান্সলেশন ডিভাইস) কার্যকারিতা নিয়ে ছিল, কোনো শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে নয়।
রামাফোসার বিশ্রামের খবর
অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে নিয়েও ইন্টারনেটে নানা গুজব ছড়াতে দেখা যায়। রামাফোসার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকদের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী তিনি সাময়িকভাবে কিছু জনাকীর্ণ অনুষ্ঠান ও সামাজিক ব্যস্ততা এড়িয়ে চলছেন এবং বর্তমানে বিশ্রামে রয়েছেন। তবে তার এই বিশ্রামের সঙ্গে দিল্লির সম্মেলনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তার শরীরে বড় কোনো জটিলতার কথাও নিশ্চিত করা হয়নি। পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাড়িয়ে প্রচার করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়, ভারত ছাড়ার সময় শির হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল এবং চীনে ফেরার পর তাকে বেইজিংয়ের ৩০১ হাসপাতালে নেয়া হয়।

















