সৌদি আরবের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানানো হয়, আনুমানিক ২ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা) মূল্যের ৪৮টি যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সহায়ক হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সেই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার দীর্ঘদিনের নীতি অক্ষুন্ন রেখেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের অভ্যন্তরে তীব্র বিরোধিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, চীনের সাথে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ সামরিক প্রযুক্তির গোপনীয় তথ্য বেইজিংয়ের হাতে চলে যেতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা কমিটির প্রভাবশালী ডেমোক্রেট সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি এই চুক্তির কড়া সমালোচনা করে বলেন, আমেরিকার প্রযুক্তির এমন গোপনীয় তথ্য কোনোভাবেই ঝুঁকির মুখে ফেলা ঠিক হবে না। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ হিসেবে এফ-৩৫ ব্যবহারকারী ইসরাইলও সৌদি আরবের কাছে এই বিমান বিক্রি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি জোটের সংঘাতের মধ্যেই নতুন এই সামরিক অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হলো। সম্প্রতি মারিব শহরে সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল হুতি বিদ্রোহীরা। চূড়ান্তভাবে এই চুক্তি কার্যকর করতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

















