চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরের আমিরাবাদ এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পাঁচ বছর বয়সী শিশু সিরাজুম মুনিরার মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলা সদরের আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মুনিরার বাবা মো. নুরুন্নবী স্থানীয় একটি ডিশ সংযোগ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং মা হাসান বানু একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী। তাদের দুই মেয়ের মধ্যে মুনিরা ছিল ছোট।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মুনিরার জ্বর আসে। প্রাথমিক ওষুধ সেবনের পর কিছুটা সুস্থ মনে হলেও গত রোববার তার জ্বর পুনরায় বেড়ে যায়। স্বজনেরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওই দিনই একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষা করান। তবে পরীক্ষার প্রতিবেদন নিতে দেরি হওয়ায় এবং চিকিৎসকের চেম্বার বন্ধ থাকায় তা হাতে পেতে মঙ্গলবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
মা হাসান বানু জানান, পরীক্ষা করাতে মেয়েটি নিজেই হেঁটে গিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এসময় তার হাত-পা ফুলে যায় এবং মলের রং কালো হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা মুনিরাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সীতাকুণ্ডে ৪৮ ঘণ্টার কম সময়ের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় কোনো শিশুর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা।
সরেজমিনে মুনিরার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীরা শোকাহত। মা হাসান বানু এবং নানি সালেহা বেগম খাটের ওপর মুনিরার স্কুলের ব্যাগ ও তার হাতের আঁকা ছবিগুলো পরম মমতায় গুছিয়ে রাখছেন। তারা কক্সবাজার ভ্রমণের স্মৃতিসহ মেয়ের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবিগুলো দেখাচ্ছিলেন। বাবা নুরুন্নবী কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে জানান, মেয়েটি খুব মিশুক ছিল এবং নতুন পোশাক ও ঘোরাঘুরি খুব পছন্দ করত। বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় সে নিয়মিত বাবাকে ফোন দিত, যা এখন শুধু স্মৃতি হয়ে রইল।
নানি সালেহা বেগম জানান, মুনিরা খুব মেধাবী ছিল। ইউটিউব দেখে সে খুব সুন্দর হাতের লেখা ও ছবি আঁকা শিখেছিল। এছাড়া বাড়ির পুকুরে সাঁতার কাটতেও সে বেশ দক্ষ ছিল। বড় বোন সিদরাতুল মুনতাহা সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পড়াশোনা করছে। অকালেই ছোট মেয়েকে হারিয়ে পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তার নিজের মেয়েও মুনিরার সঙ্গে একই শ্রেণিতে পড়ত। মুনিরার মৃত্যুর বিষয়টি তিনি প্রথম তার মেয়ের কাছেই শোনেন। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং বেদনাদায়ক একটি ঘটনা বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।















