কানাডীয় পপতারকা জাস্টিন বিবারের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নজর কাড়া অস্ট্রেলীয় মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার ও ইনফ্লুয়েন্সার সাহারা রে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৪ বছর। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সোমবার তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি প্রকাশ করে মার্কিন বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড। সাহারার স্বজনেরা জানিয়েছেন, জীবনের শেষ মুহূর্তে পরিবারের সব সদস্য তাঁর পাশেই উপস্থিত ছিলেন। ২০২৪ সালের মে মাসে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ তাঁর অসুস্থতা ও পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে কৈশোর পেরিয়ে মডেলিং ও ফ্যাশন ডিজাইনের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা না হলেও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ফেন্টানিল নামের অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যথানাশক মাদকের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের কারণেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। শুক্রবার রাতে হঠাৎ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অবস্থার চরম অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রোববার পরিবারের সিদ্ধান্তে জীবন রক্ষাকারী এই ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হয়। পেজ সিক্সও একই দাবি করলেও অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের বিষয়টি দুর্ঘটনাবশত ছিল কি না তা স্পষ্ট নয় এবং এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মদ্যপ এক গাড়িচালক তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। রোববার সেই জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় পরিবারকে। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ গ্রহণের ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। মৃত্যুর পর সেই ছবিগুলো ঘিরে আবেগঘন মন্তব্য করছেন অনুসারীরা। পরে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হয়েছিল।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কন্যাসন্তান স্নো-র জন্ম দিয়ে মা হন সাহারা। মা হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তানকে নিয়ে বহু অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি। গত ১৯ জুলাই ইনস্টাগ্রামে মেয়ের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘আমার পুরো হৃদয়জুড়ে ছোট্ট স্নো।’ এটিই ছিল তাঁর ইনস্টাগ্রাম গ্রিডের সর্বশেষ পোস্ট। এর আগে সন্তান জন্মের দিন হাসপাতালে ভর্তির পূর্ব মুহূর্তে অনুসারীদের সঙ্গে নিজের ভয় ও আনন্দের কথা ভাগ করে নিয়েছিলেন সাহারা। সন্তান জন্মের আগে ২৫ জানুয়ারি জানিয়েছিলেন, সেদিন রাতেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবশেষ পোস্টটিও ছিল মেয়েকে ঘিরে। সেখানে সাহারা জানিয়েছিলেন, মুহূর্তেই তাঁর জীবন বদলে গেছে। তবু সুস্থ হওয়ার আশা ছাড়তে চাননি তিনি। মডেলিংয়ের পাশাপাশি ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তার মাধ্যমে পরিচিতি বাড়তে থাকে তাঁর।
সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই মডেল। ২০২৪ সালে তিনি জানান, একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর তিনি ‘গিয়াঁ-বারে সিনড্রোম’ নামে একটি বিরল স্নায়বিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। সাহারার ভাষ্যমতে, এক মদ্যপ গাড়িচালকের ধাক্কায় দুর্ঘটনার পর তাঁর কোমরের নিচের অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। সে সময় হুইলচেয়ার ও হাঁটার সহায়ক সামগ্রী ব্যবহার করতে হলেও তিনি সেরে ওঠার বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন। পরবর্তীতে সেভেন নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি এই লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন।
শারীরিক ব্যাধির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদক নির্ভরতা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছিলেন সাহারা। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মাদক ও অ্যালকোহল থেকে মুক্ত হতে ৩০ দিনের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচিতে ভর্তি হওয়ার কথা প্রকাশ করেন তিনি। তবে অতীতে আসক্তির চিকিৎসার সঙ্গে তাঁর হঠাৎ মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা জানা যায়নি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি জানান, মাদক ও অ্যালকোহলনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতিমান সার্ফার টনি রের মেয়ে সাহারা শৈশব থেকেই সমুদ্র ও সার্ফিংয়ের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। পরবর্তীতে ফ্যাশন ও মডেলিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন এবং ২০১৪ সালে ‘সাহারা রে সুইম’ নামে নিজের সাঁতারের পোশাকের ব্র্যান্ড চালু করেন। ২০১৬ সালে হাওয়াইয়ে জাস্টিন বিবারের সঙ্গে ছুটির ছবি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন তিনি, যদিও দুজনের কেউই প্রেমের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। এর আগে অস্ট্রেলীয় গায়ক কোডি সিম্পসনের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। মৃত্যুর পর সাহারার মা গ্রেচেন বাখ জানান, অত্যন্ত ভালোবাসায় পূর্ণ ও আবেগপ্রবণ মানুষ হিসেবে সাহারা তাঁর পরিবার, মেয়ে স্নো ও ফ্যাশনকে ঘিরেই বেঁচে ছিলেন। বাবার সূত্রে ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র ও সার্ফিংয়ের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় তাঁর।

















