জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, যোদ্ধাদের সাংবিধানিক সুরক্ষা বা দায়মুক্তি নিশ্চিতকরণ এবং ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচার—এই তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে অংশ নিয়ে তারা এসব দাবি তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। এই সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজন এবং আহত ব্যক্তিসহ বিভিন্ন সংগঠনের মোট ৬৩ জন জুলাইযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সভায় শহীদ ও আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে তিনটি মূল বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, যেখানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্রটি’ সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ প্রয়োজনীয় অংশে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা। এ বিষয়ে কমিটির অবস্থান স্পষ্ট করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার জন্য বিদ্যমান অধ্যাদেশটি আইনি বৈধতা পেয়েছে। তবে এর সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে এই সুরক্ষা ও দায়মুক্তির বিষয়টি সংবিধানের তফসিলে নির্দিষ্ট স্থানে যুক্ত করা হবে। এছাড়া মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচার কাজ ত্বরান্বিত করতে সরকার তদন্ত ও প্রসিকিউশনে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ চলমান রয়েছে। তবে অতীতের বিতর্ক এড়াতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে ‘রাষ্ট্রপতি’র থাকার বিতর্কিত বিকল্পটি এবার বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে কোনো সরকার যাতে মৌলিক সাংবিধানিক বিষয় পরিবর্তন করতে না পারে, সেজন্য ‘গণভোট’ বা রেফারেন্ডাম ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোট বাতিল হলেও হাইকোর্টের রায়ে তা অসাংবিধানিক ঘোষিত হওয়ায় ডকট্রিন অব একলিপস নীতি অনুযায়ী আগের ব্যবস্থা ফিরে এসেছে। নতুন সংশোধনীতে এমন কিছু আর্টিকেলের পরিবর্তন ও সংযোজন আনা হবে, যার জন্য পরবর্তী পর্যায়ে সাংবিধানিক গণভোট বাধ্যতামূলক হবে।
‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমতসহ (নোট অব ডিসেন্ট) যেভাবে এই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, কমিটি সেভাবেই তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে তিনি জানান, প্রস্তাবনাগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শিগগিরই সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও শিক্ষাবিদদের মতামত নিয়ে সমৃদ্ধ একটি বিল জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং সাকিলা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।

















