আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ফাইভআরকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা ও মার্কেটপ্লেস কারসাজির অভিযোগে বিটোপিয়া গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগের আড়ালে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে সেসব পরিচালনা করা এবং ভুয়া অর্ডার ও রিভিউয়ের মাধ্যমে র্যাংকিং প্রভাবিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে যে, বিটোপিয়া তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রিল্যান্সারদের অ্যাকাউন্ট বা গিগের র্যাংকিং নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্ডার দিত এবং পরবর্তীতে তা বাতিল বা রিফান্ড করত। এই কৌশল অবলম্বন করে তারা ডিজিটাল স্ক্যামিংয়ে লিপ্ত ছিল বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সাররা। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার এম এন নাহিদের ফেসবুক অভিযোগের পর বিষয়টি সামনে আসে এবং পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মীদের দেওয়া তথ্যে বিতর্কের মাত্রা আরও তীব্র হয়।
দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন ফ্রিল্যান্সারের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর গত জুলাইয়ের শেষ দিকে ফাইভআর কর্তৃপক্ষ বিটোপিয়া সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩০০টি অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে। সূত্রের দাবি, এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের কাজ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া আরও হাজার হাজার অ্যাকাউন্টের ওপর নজরদারি ও তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।
গত ৪ আগস্ট ২০২৬ ফাইভআরের কমিউনিটি ফোরামের বাংলাদেশ অংশে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে একটি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। সেখানে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করা হলেও মার্কেটপ্লেসের সুনাম ক্ষুণ্ণকারী ও নীতিমালা লঙ্ঘনকারী অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। ফাইভআরের স্পষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, অন্য কোনো ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা পরিচালনা করা নিষিদ্ধ, যা বিটোপিয়া ব্যাপকভাবে অমান্য করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে রাজধানী ঢাকার গুলশান অ্যাভিনিউয়ের লোটাস কামাল টাওয়ার-২ এর লেভেল ৬-এ বিটোপিয়া গ্রুপের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। ২০১৭ সালে বিডিকলিং আইটি নামে যাত্রা শুরুর পর প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিশাল সাম্রাজ্য গড়েছে। তারা গুলশান ১-এর রোড ২৯-এ ৮ দশমিক ৮ শতাংশ জমির ওপর একটি ৯ তলা ভবনও কিনেছে। এছাড়া বিটোপিয়া গ্রুপের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, দেশের বাইরেও তাদের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনির হোসেন ১৮ আগস্ট এক ফোন কলে দাবি করেন যে, তথ্য সরবরাহকারী কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে জানান যে, তাদের অনেক আইডি ফাইভআরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিটোপিয়া নেতিবাচক ভাবমূর্তি এড়াতে ফায়ারএআই, জেভিএআই, স্পার্কটেক, সফটভেন্স ও এসএমটেকের মতো ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করত।
সাবেক কর্মীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিটোপিয়া শুধু ডিজিটাল কারসাজিই নয়, বরং কর্মীদের পাসপোর্ট আটকে রাখা, বিনা মূল্যে কাজ করানো, অনিয়মিত বেতন ও শারীরিক হেনস্থার মতো ঘটনার সঙ্গেও জড়িত। চাকরি ছাড়ার পরও অনেক কর্মী তাদের ব্যক্তিগত পরিচয়ে খোলা ফাইভআর অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাননি। প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি কিংবা স্বাস্থ্যবিমার মতো কোনো স্বচ্ছ নীতিমালা ছাড়াই চলছে তাদের কার্যক্রম।
ফ্রিল্যান্সিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিটোপিয়ার এই অপকৌশলের মাশুল দিতে হতে পারে হাজারো প্রকৃত ফ্রিল্যান্সারকে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্কো) সাধারণ সম্পাদক ফায়সাল আলিম এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি তরুণদের সম্ভাবনাময় এই খাতকে বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের হাজার হাজার তরুণ যখন নিজস্ব পরিচয়ে দক্ষতা দেখিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন, তখন বিটোপিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের সংঘবদ্ধ কারসাজি পুরো দেশের ফ্রিল্যান্সিং বাজারের সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা বা স্ক্যামিংয়ের অভিযোগে আলোচিত হচ্ছে বিটোপিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েক হাজার অ্যাকাউন্ট নজরদারি ও তদন্তের আওতায় এসেছে বলেও জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নীতিমালা লঙ্ঘনকারী অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মার্কেটপ্লেসে তাদের অবস্থান নিচে নামিয়ে দেওয়ার কথাও জানানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই গ্রুপ বেশ কিছু স্থাবর সম্পত্তিও কিনেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজধানীর লোটাস কামাল টাওয়ার-২, লেভেল ৬, (৫৯ ও ৬১), সাউথ অ্যাভিনিউ, গুলশান অ্যাভিনিউ ঠিকানায় তাদের প্রধান কার্যালয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া রাজধানীর বনশ্রী, মহাখালিতেও তাদের কার্যালয় আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গুলশানে বিডি কলিং আইটি লিমিটেডের নামে কিছুদিন আগেই তারা কিনেছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ জমিতে একটি ৯ তলা ভবন (বাড়ি ৮/সি, রোড ২৯, গুলশান ১, ঢাকা)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভবেন বাইরে সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘এই সম্পত্তি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, কেরানীগঞ্জ শাখা, ঢাকা এর নিকট দায়বদ্ধ।

















