মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করার মাধ্যমে তার পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করেছে। ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের অধীনে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এর আগে, গত সোমবার সন্ধ্যায় ইশরাক হোসেন তার লিখিত পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে সেই পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ রোববার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িড়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন নিজের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, নিজের আত্মরক্ষার প্রয়োজনে তিনি সাময়িকভাবে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন এবং এতে কোনো আইন লঙ্ঘিত হয়নি। তবে নিজের দলের ভাবমূর্তি ও সম্মান অটুট রাখার স্বার্থেই তিনি পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। পদ ছাড়লেও তিনি ব্যক্তিগত পর্যায়ে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর আগে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ফলে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা এখন ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণ মন্ত্রীর সংখ্যা ২৭ জন এবং প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা ২৩ জন। তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

















