ইয়েমেনের এডেনে বদর ক্যাম্পে অবস্থিত একটি সৌদি সামরিক ঘাঁটির অপারেশনস রুমে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা। বুধবার এক বিবৃতিতে হুথি সমর্থিত সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রটি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তবে একই দিনে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে কোনো অভিযান চালানোর তথ্য অস্বীকার করেছে সংগঠনটি। বিশেষ করে মদিনার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করার যে তথ্য সৌদি আরব জানিয়েছে, তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেন ইয়াহিয়া সারি। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে সৌদি আরবের কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানো হলেও মক্কা ও মদিনাকে সব সময় যেকোনো সামরিক অভিযানের বাইরে রাখা হয়েছে।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারি জানান, আগের ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের আটটি প্রদেশে সৌদি যুদ্ধবিমান থেকে অন্তত ৯৩টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় আল-জৌফ, তাইজ, সায়াদা, মারিব, হাজ্জাহ, লাহাজ, আমরান এবং ইব্ব প্রদেশের বেসামরিক ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ হতাহত হন। খামিস মুসাইত, তায়েফ, আল-খারজ ও শারুরা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এসব আক্রমণ পরিচালিত হয়। তথ্য মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরুর পর থেকে ইয়েমেনে সৌদি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোট সংখ্যা ২,৭৯৩টিতে পৌঁছেছে।
এদিকে সংবাদমাধ্যম ‘আল মায়াদিন’-এর প্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, ধুবাব জেলার আল-কাদাহা উপকূলে একটি মাছ ধরার নৌকায় সৌদি বিমান হামলায় আটজন জেলে প্রাণ হারিয়েছেন। প্রথম দফার বোমাবর্ষণ থেকে বেঁচে যাওয়া জেলেরা যখন পালাচ্ছিলেন, তখন যুদ্ধবিমানগুলো পুনরায় ফিরে এসে দ্বিতীয়বার আক্রমণ চালিয়ে তাদের হত্যা করে।
অন্যদিকে, গত ১৯ অক্টোবর হুথিদের সশস্ত্র বাহিনী ৪৮ ঘণ্টার এক বড় ধরনের সমন্বিত অভিযানের চিত্র প্রকাশ করে। সে সময় সৌদি আরবের তেল ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালাস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি একঝাঁক ড্রোন দিয়ে মোট ছয়টি সামরিক হামলা চালানো হয়। এসব হামলার নিশানা ছিল ইয়ানবুর সৌদি আরামকো সুবিধা, শায়বাহ তেলক্ষেত্র, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, খামিস মুসাইত বিমানঘাঁটি, একটি নৌবাহিনীর ক্যাম্প এবং সামরিক রাডার।
হুথি মুখপাত্র জানান, আরামকো ও শায়বাহ তেলক্ষেত্রে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় সেখানে তীব্র অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এছাড়া আবহা বিমানবন্দর ও খামিস মুসাইত ঘাঁটিতে ধ্বংসাত্মক হামলার কারণে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে বীর আসকরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক রাডার হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও দাবি করে হুথিরা।

















