যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে তীব্র ও স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের সামরিক বাহিনী এই সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে নিয়মিত মহড়া জোরদার করেছে। বিশেষ করে ইরানের পশ্চিমে অবস্থিত প্রতিবেশী দেশ ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিমান হামলার কৌশল অনুশীলন করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে এসব প্রস্তুতির অর্থ এই নয় যে, হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিশাল মজুত।
ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো, বড় ধরনের সামরিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করা। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এ পরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। যদিও চলতি অক্টোবরেই হামলার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঠিক কবে এ হামলা চালানো হতে পারে, তা জানায়নি গণমাধ্যমটি। এর মাধ্যমে তেহরানকে কূটনৈতিক আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালাবে না এবং তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেই দুই দেশের সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। এমন অবস্থায় নির্বাচনের পরবর্তী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইল সফর করেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই আলোচনায় ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে এই বৈঠক থেকে হামলার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা। একই সাথে পারমাণবিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ধ্বংসের লক্ষ্য নেওয়া হলে তেহরানের সামরিক সক্ষমতাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরানকে চাপে রাখতে চাইছে, তবে অভিযানের চূড়ান্ত ফলাফল বা ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ধরণ এখনো অনিশ্চিত। তবে এটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন; হামলার ফলাফল কিংবা ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

















