দীর্ঘদিনের পদোন্নতিবঞ্চনা, পদোন্নতিসংক্রান্ত নানা জটিলতা ও ক্যাডারভিত্তিক বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। এই সাত দফা দাবি আদায়ে আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সরকারি আদেশ (জিও) অবিলম্বে জারি করা। এছাড়া ২৪তম থেকে ৩৮তম বিসিএস পর্যন্ত পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি পদোন্নতির পথে বড় বাধা হিসেবে থাকা ২ হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দ্রুত অনুমোদনের দাবি তোলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বরে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এসব সভার পরও চূড়ান্ত সরকারি আদেশ জারি না হওয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ২৩ জুলাই মাউশি থেকে দুটি স্মারকের মাধ্যমে ডিপিসির সভা আহ্বান করা হয়েছিল। তৎকালীন সচিবের সভাপতিত্বে ২৭ জুলাই সেই সভা হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা পিছিয়ে যাওয়ায় পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা নেমে আসে।
আন্দোলনরত প্রভাষকরা দাবি জানিয়েছেন, বিধি অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের প্রাপ্য সকল আর্থিক সুবিধাসহ ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া শিক্ষা ক্যাডারে বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রতা ও ক্যাডারভিত্তিক বৈষম্য দূর করে একটি স্বচ্ছ, নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানানো হয়েছে।
তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতির যোগ্যতা ও প্রাপ্যতাসংক্রান্ত বর্তমান জটিলতা নিরসন করে সংশ্লিষ্ট ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সবশেষে, পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠক আয়োজন করে পদোন্নতি বাস্তবায়নের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এবার রাজপথে অবস্থান নিয়ে চাপের মুখে কর্তৃপক্ষকে পদোন্নতি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বাধ্য করার লক্ষ্য নিয়েছেন শিক্ষা ক্যাডারের এই কর্মকর্তারা।

















