সৌদি আরবের দুই পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা বজায় রাখা দেশের জন্য ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এই কড়া বার্তা দিয়েছেন মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদের ধর্মীয় প্রধান। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। সৌদি আরবের অভিযোগকে তারা ‘বড় ধরনের মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। রিয়াদে একের পর এক বিস্ফোরণ এদিকে ‘রেড লাইন’ ঘোষণার মধ্যেই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় রিয়াদে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
গ্র্যান্ড মসজিদ ও মসজিদে নববির ধর্মীয় বিষয়ক প্রেসিডেন্ট শেখ আবদুর রহমান আল সুদাইস সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মক্কা ও মদিনার পবিত্রতা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া হবে না। হুতিদের এই ক্রমাগত হামলাকে তাদের অনৈতিক সামরিক কৌশল এবং মুসলিম সমাজ ও ইসলামি পবিত্র স্থানের প্রতি গভীর বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। আল সুদাইস বলেন, প্রতিটি পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা বিধান করা আন্তর্জাতিক মানবিক নীতি ও ইসলামি আইন উভয় অনুসারেই বাধ্যবাধকতা, যা লঙ্ঘন করা এক মারাত্মক অপরাধ।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার মক্কা ও মদিনা অঞ্চলকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে থাকতেই ধ্বংস করে তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পশ্চিমাঞ্চলের ওয়াদি আল মুগাম্মাস, জেদ্দার আল নুজহা, তাইফের ওয়াদি জলিল এবং রাবিগের মাসতুরা এলাকায় পড়ে। এরপর দ্রুতই সেখানে সিভিল ডিফেন্সের দল উদ্ধার ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রতিরক্ষাবাহিনীর সক্ষমতার প্রশংসা করে আল সুদাইস বলেন, এসব অপচেষ্টা দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে পারবে না, বরং হাজি ও ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার আরও বাড়িয়ে তুলবে। অন্যদিকে, হুতিরা মক্কা-মদিনায় হামলা চালানোর এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করেছে। এসব স্থানে হামলা চালানো সেই বিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
সৌদি আরবের এই কড়া সতর্কবার্তার মধ্যেও রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এএফপির প্রতিনিধি জানান, রোববার ভোরে রিয়াদের আকাশে অন্তত তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় সাধারণ বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ‘শত্রুপক্ষের আকাশপথে হামলার হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালিকি জানিয়েছেন, রাত ১টা ও ভোর ৫টার দিকে রিয়াদমুখী দুটি সশস্ত্র ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী। জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হুতি মিলিশিয়াদের ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত অভিমুখে আসা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি আবহা ও নামাস এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। তীব্র গোলাবর্ষণে স্থানীয় এলাকা কাঁপছিল বলে জানান খামিস মুশাইতের এক অধিবাসী। খামিস মুশাইতের এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, ‘আজ সকাল থেকে গোলাবর্ষণ খুব তীব্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জোট জানায়, ‘সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়ার পক্ষ থেকে রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

















