ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের দান্তেওয়াড়া ও কিরান্দুলসহ বেশ কিছু অঞ্চলে আকাশ হঠাৎ গভীর লাল রং ধারণ করেছে। অস্বাভাবিক এই দৃশ্যের বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বড় অংশের দাবি, সম্প্রতি আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর কারণে আবহাওয়ার চরম পরিবর্তনের ফলেই আকাশের এমন রূপ দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রচণ্ড বাতাসে বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা ও লোহার উপাদানসমৃদ্ধ লাল মাটি বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে উঠে যাওয়ার কারণে আকাশে এই বিশেষ লালচে আভা তৈরি হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর বিষয়ে ব্যবহারকারীরা দাবি করছেন, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সৃষ্ট প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই আকাশের রং এমন হয়ে ওঠে। অনেকে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
অনুরূপ প্রাকৃতিক ঘটনা এর আগেও প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। অস্ট্রেলিয়ায় যখন ঘূর্ণিঝড় ‘নারেল’ আঘাত হেনেছিল, তখনও সেখানে এমন দৃশ্য দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভৌগোলিক কারণে ওই অঞ্চলের মাটিতে আয়রন বা লোহার পরিমাণ বেশি থাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ধূলিকণা বাতাসের সঙ্গে মিশে পুরো আকাশকে লাল করে তোলে, যা দেখতে অনেকটা মঙ্গল গ্রহের মতো লাগে।
ছত্তিশগড়ের এই রহস্যময় দৃশ্য দেখে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এই পরিবেশকে জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ বা ভৌতিক সিনেমা ‘ইভিল ডেড’-এর আবহাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। আবার সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই।
উলেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। সে সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। ভারতের আবহাওয়া অফিস এটিকে ‘অতি তীব্র’ ঘূর্ণিঝড় হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এই তাণ্ডবে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা, ধ্বংস হয়েছে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি। একই সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় অন্ধ্রপ্রদেশে অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে।

















