ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের বিতর্কিত ছবি রাখার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এই ঘটনার তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে আসা ডাকসু সংক্রান্ত কার্যক্রমগুলো কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর পরিপন্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সম্পত্তি তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের পূর্ণ দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। অথচ ডাকসু কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন স্থাপনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে, যা আইনত এখতিয়ারবহির্ভূত।
ডাকসুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অনুমতি ছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ শিরোনামে কলাভবন সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ও বিধিমালার চতুর্দশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর ধারার নোট অনুযায়ী, ছাত্র সংসদ যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাইস চ্যান্সেলরের নির্দেশনা গ্রহণ করতে বাধ্য। তা অমান্য করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শন ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে চরম সাংঘর্ষিক, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তের আওতায় আরও থাকছে ডাকসুর বিতর্কিত শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইট। অনুমতিহীন এই ওয়েবসাইট চালুর মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্যমতে, শিক্ষক মূল্যায়ন একটি সংবেদনশীল একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। কোনো ছাত্র সংসদ নিজেদের উদ্যোগে এমন ব্যবস্থা চালু করতে পারে না। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন ভঙ্গকারী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডাকসু সংগ্রহশালায় মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহর ছবিটি রাখা হয়েছিল, যা পরে শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে ওই একই স্থানে ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে জুতা মারার একটি ছবি সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।












