পাবনার ঈশ্বরদীতে কয়েকদিন ধরে পদ্মার পানি বাড়ার পর এখন কিছুটা কমার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার হিসাব অনুযায়ী, পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৯৮ সেন্টিমিটার। অথচ এর আগের দিন অর্থাৎ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে একই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার, অর্থাৎ পানি এখনো বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বাড়ার কারণে এরই মধ্যে সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দাদাপুর গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, এসব জমিতে কলা, গাজর, মুলা ও করলাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ ছিল, যা এখন পানির নিচে। এছাড়া চরাঞ্চলে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় অনেককে গরু-মহিষ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হচ্ছে।
সাঁড়া ঘাট এলাকার বাসিন্দারা নদী ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সাইফুল ইসলামের ভাষ্যমতে, এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধ না থাকায় পানি বৃদ্ধির সময় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় থাকতে হয় তাদের। এছাড়া লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বেশ কিছু ইটভাটায় পানি ঢুকে পড়ায় মালিকরা বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ফুচকা, খাবার ও খেলনার দোকানগুলোতে পানি উঠে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী মালামাল গুটিয়ে নিয়েছেন। দোকান সরিয়ে নেওয়া ব্যবসায়ী মনোয়ারা খাতুন জানান, পানি বাড়ার কারণে পর্যটকদের আনাগোনাও কমে গেছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দেখতে আসা নাজমুল হোসেনও একই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানান।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন এবং পানি পরিমাপের দায়িত্বে থাকা রিডার সেতু আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদিও বর্তমানে পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে, তবুও নিচু এলাকার মানুষের দুর্ভোগ ও ফসলি মাঠের ক্ষতির আতঙ্ক কাটেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নদীর পানি বাড়ায় আশপাশের ফসলি জমিতেও পানি উঠেছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানি বাড়ার কারণে আগের মতো মানুষও এখানে ঘুরতে আসতে পারছেন না।’।











