পাবনার ঈশ্বরদীতে সরকারি চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মহির মন্ডলের (৫২) ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর পাঠশালা মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম রিপন (৩০)। তিনি ওই এলাকার সিদ্দিক মুন্সীর ছেলে। হামলার সময় অভিযুক্ত যুবক চিৎকার করে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোকে মেরে সতর্ক করলাম, কিন্তু স্বপন মেম্বারকে মেরেই ফেলব।’ এই ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত মহির মন্ডল বর্তমানে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে মানিকনগর পাঠশালা মোড়ে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছিল। প্যানেল চেয়ারম্যান মহির মন্ডল সেখানে কাজের তদারকি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে যান। পরিদর্শন শেষে কর্মস্থলে ফেরার জন্য তিনি যখন মোটরসাইকেলে উঠছিলেন, ঠিক তখনই পেছন থেকে রিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর বাম পায়ের উরুতে আঘাত করেন। হামলার পর ওই যুবক স্বপন মেম্বারকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। আহত চেয়ারম্যানের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে রিপন কোমর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ভয় দেখিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। এরপর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় প্যানেল চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
সরকারি চালের ডিলার মো. শিপন বিশ্বাস জানান, সকাল থেকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিট আগেই চেয়ারম্যান তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে মোটরসাইকেলে ওঠার জন্য রাস্তার দিকে যান। হঠাৎ চিৎকার শুনে এগিয়ে গিয়ে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যানের শরীর থেকে রক্ত ঝরতে দেখেন। পরে জানতে পারেন যে স্থানীয় যুবক রিপন তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহির মন্ডল জানান, তিনি মোটরসাইকেলে ওঠার পরপরই পেছন থেকে অতর্কিত এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারী রিপনকে তিনি চেনেন না এবং কী কারণে তাঁর ওপর এই আক্রমণ করা হলো সে বিষয়েও তাঁর কোনো ধারণা নেই। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানান তিনি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তবে এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরও বলেন, ‘কেন সে আমার ওপর হামলা করেছে, তা আমি জানি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিস্তারিত জানার পর হামলার সঠিক কারণ বলা যাবে।












