দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুহার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৯১৬ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের ১৬ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৭০ জন। অথচ আগস্ট মাসজুড়ে মোট রোগী ছিল ২০ হাজার ৫৩৬ জন। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৭৫৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে গত সোমবার একদিনে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির রেকর্ড হয়েছিল, যা দুই দিনের ব্যবধানে ভেঙে গেল।
মৃত্যুর হারেও সেপ্টেম্বর আগস্টকে ছাড়িয়ে গেছে। আগস্ট মাসে মোট ৫৪ জনের মৃত্যু হলেও চলতি মাসে আজ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৭৪ জন। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত সাতজনের সবাই ঢাকার বাইরের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে তিনজন খুলনা বিভাগের এবং অন্য চারজন চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা। ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগের (দুই সিটি বাদে) ৯ হাজার ৫০৬ জন এবং এর পরেই রয়েছে খুলনা বিভাগ ৯ হাজার ৩১২ জন রোগী নিয়ে। গত ২৪ ঘণ্টায়ও ঢাকা বিভাগে ৩৯৪ জন এবং খুলনা বিভাগে ৩৪৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মাসের শুরু থেকেই পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করেছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবীরুল বাশার এ বিষয়ে বলেন, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ মাসে ডেঙ্গু রোগী ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু মোকাবিলায় যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, সেগুলোকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, এসব কার্যক্রম শুধু প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি নভেম্বর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা করা গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি মত দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সাতজন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জনস্বাস্থ্য ও কীটতত্ববিদেরা এ মাসের শুরুতেই উচ্চ সংক্রমণের আশঙ্কা করেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটিকে সাধুবাদ জানাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটা আগামী নভেম্বর পর্যন্ত চলবে আশা করি।













