বরিশালের বাবুগঞ্জে গাঁজা সেবনের প্রতিবাদ করার জের ধরে মেহেদী হাসান (২৬) ও মো. রিমন (২০) নামের দুই যুবককে লাঠিপেটা করে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের সিংহেরকাঠী গ্রামের ছোট মীরগঞ্জ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মেহেদী ওই এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে এবং রিমন একই এলাকার মো. মনির ঘরামীর ছেলে। তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কিসমত এলাকার কয়েকজন যুবক নদীর পূর্ব পাড়ে কুমাড়িয়ারপিঠ এলাকায় গিয়ে গাঁজা সেবন করছিল। স্থানীয়রা তখন তাদের বাধা দিলে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমাড়িয়ারপিঠের দুই জেলে অর্থাৎ ভুক্তভোগী মেহেদী ও রিমন মাছ বিক্রির জন্য ছোট মীরগঞ্জ বাজারে যান। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা কিসমত এলাকার সারাফাত, মুন্নাসহ কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরে গতদিনের ঘটনার জের নিয়ে হুমকি-ধমকি দেয়। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি শান্ত হলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় কিছুক্ষণ পরেই।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৮টার দিকে মেহেদী ও রিমন যখন একটি দোকানে বসে ছিলেন, তখন সারাফাত ও মুন্নাসহ ৭-৮ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়। রহমতপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. জামাল হোসেন পুতুল জানান, হামলাকারীরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাঠি দিয়ে দুজনের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী আইয়ুব আলী হাওলাদার বলেন, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এই দুই যুবককে এভাবে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে যে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রাই তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠায়।
ঘটনাটি নিয়ে ওই এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে স্থানীয়রা তাদের শান্ত করে দেন।












