বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবরেই এই চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, আমরা এয়ারবাস কিনছি এবং ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
বোয়িং ও এয়ারবাস নিয়ে সামগ্রিক পরিকল্পনা
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে ইতিমধ্যে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারের নেওয়া উদ্যোগে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি চূড়ান্ত হলো। অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে যে কেন এখনই এতগুলো উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, চুক্তি স্বাক্ষর মানেই এখনই উড়োজাহাজগুলো বুঝে নেওয়া নয়। চুক্তির শর্তানুসারে প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে সরবরাহ করা হবে। এভাবে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ ধাপে ধাপে আসতে প্রায় ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগবে। বর্তমানে এসব উড়োজাহাজের জন্য কোনো অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন পড়ছে না; প্রতিটি উড়োজাহাজ বুঝে পাওয়ার পরেই অর্থ পরিশোধ করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম এয়ারক্রাফটটি আসবে ২০৩১ সালে।
এভিয়েশন খাতের লক্ষ্য ও সম্ভাবনা
- আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছর পরের আকাশপথের চাহিদা ও সক্ষমতাকে মাথায় রেখেই দীর্ঘমেয়াদী এই পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
- কোন উড়োজাহাজ আমাদের জন্য উপযুক্ত, তা নিজস্ব বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হয়েছে।
- কারও জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি হলো কি হলো না, সেটি সরকারের বিবেচ্য বিষয় নয়।
- দেশের এভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
এভিয়েশন খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী ইথিওপিয়ার উদাহরণ টানেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের চেয়ে জিডিপির হার কম হওয়ার পরও ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস ১৬৭টি উড়োজাহাজ নিয়ে তাদের বিশাল ব্যবসা পরিচালনা করছে। জাতীয় অর্থনীতিতে এভিয়েশন খাতের বড় ধরনের অবদান রাখার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সেই বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতেই বর্তমান সরকার এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি জানান।

















