ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশই তেল বিক্রি করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘যে অঞ্চলে আমরা তেল বিক্রি করতে পারব না, সেখানে অন্য কেউও তেল বিক্রি করতে পারবে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপট
ওয়াশিংটনের সাথে চলমান সংঘাত ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বর্তমানে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। এর আগে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। গালিবাফ চলতি মাসের শুরুতে সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামো ইরানের পাল্টা হামলার শিকার হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি ও মার্কিন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক
- ১৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন সহায়তা ও নজরদারিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে। অথচ ওয়াশিংটন যে ‘কঠোর অবরোধ’-এর কথা বলে, তার আওতায় ইরান শূন্য ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
- হরমুজ প্রণালি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন গালিবাফ। ট্রাম্প ইরানের শর্তকে অগ্রহণযোগ্য দাবি করে বলেছেন, প্রণালিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।
- ইরান তার শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলেছে।
কূটনৈতিক আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানের নতুন কিছু প্রস্তাব ও ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরবেন। হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে ইরানের দাবিগুলো কীভাবে পূরণ করা যায়, তা নিয়েই আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটনের কাছ থেকে এই আলোচনার চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া মঙ্গলবার পাওয়ার আশা করছে তেহরান। এ সংকট নিরসনে উভয় পক্ষই এখন কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর জোর দিচ্ছে।















