১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অর্থনীতি

কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি ও বৈষম্য অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি

news24banglatv.com অর্থনীতি ডেস্ক
Follow us Facebook YouTube
সব খবর

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে র‍্যাপিড-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, অর্থনীতির কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হলেও স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি এখনো যথেষ্ট দুর্বল। দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও সঞ্চয় করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এডিবি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশে নির্ধারণ করেছে, যা বিনিয়োগ পরিস্থিতির দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে। ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান। সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। অর্থাৎ কিছু ঝুঁকি কমেছে, কিন্তু অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো রয়ে গেছে।

সামগ্রিক সঞ্চয়ের পরিসংখ্যানেও উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে দেশজ সঞ্চয় জিডিপির প্রায় ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে জাতীয় সঞ্চয়ও প্রায় ৩০ শতাংশ থেকে কমে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জাতীয় সঞ্চয়ের হার এমনিতেই ৩ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে, যার ওপর রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও কমলে সঞ্চয়ের ওপর বড় ধরনের আঘাত আসবে।

সরকারের রাজস্ব আহরণ এবং ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। অক্টোবর-ডিসেম্বরে সরকার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে শীতে জ্বালানি চাহিদা কম থাকলেও ইউরোপের বাড়তি চাহিদার কারণে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাজারে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির ওপর ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাণিজ্যনীতি এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী চাপ অনুভূত হচ্ছে। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের প্রধান দুই বাজারের আমদানির চিত্র বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১০২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছিল, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১০৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি ১০০ বিলিয়ন থেকে কমে ৮৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ পোশাকনির্ভর হওয়ায় এই পরিস্থিতিতে রপ্তানি আয় বাড়ানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উন্নয়ন ও জননীতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে, বিনিময় হার তুলনামূলক স্থির হয়েছে এবং রেমিট্যান্স-প্রবাহ বহিস্থ খাতের প্রবাহের চাপ সামলাতে সহায়তা করছে। সেপ্টেম্বরে মুডিস বাংলাদেশের ঋণমানের আউটলুক ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তির প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ ও অসম দর-কষাকষির ফসল বলে মনে করেন ড. রাজ্জাক। বাজার হারানোর ভয়ে তড়িঘড়ি করে করা এই চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে অনুভূত হতে পারে। এছাড়া এলডিসি উত্তরণের ক্ষেত্রে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর সময় পাওয়া গেলে সেই সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি। ইউরোপীয় ইউনিয়নে বর্তমানের সমতুল্য বাজারসুবিধা ধরে রাখাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, কারণ ইইউর নতুন জিএসপি কাঠামোর সুরক্ষামূলক বিধান চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এসব ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বীকৃতিও পাওয়া যাচ্ছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ত্রুটি দৃশ্যমান। বিবিএসের খানা জরিপ অনুযায়ী, দেশের হতদরিদ্র মানুষের প্রায় ৪৮ শতাংশই কোনো সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পায় না। অন্যদিকে, এসব সুবিধার মাত্র ২০ শতাংশ প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে পৌঁছায়, আর বাকি ৮০ শতাংশ সুবিধাভোগী দারিদ্র্যসীমার ওপরে অবস্থান করছে। ড. রাজ্জাকের মতে, ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্যান্য কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে তা দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারত। যদি শুধুমাত্র দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে টার্গেট করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া যেত, তবে এর জন্য ব্যয় হতো জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি এবং বৈষম্য যে কোনো সমাজের জন্য অস্থিরতার কারণ। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের দিকে তৈরি পোশাক রপ্তানি ছিল প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার এবং প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান ছিল ৩৫ লাখ। পরবর্তী সময়ে রপ্তানি প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও কর্মসংস্থান সেই অনুপাতে বাড়েনি। প্রযুক্তির ব্যবহার ও যন্ত্রের আধিক্য এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। তাই উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন শিল্পায়ন ও সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি।

কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে, যার প্রধান কারণ কর প্রশাসনের অদক্ষতা। পরোক্ষ করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে করকাঠামোতে স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন। করদাতাদের আস্থা অর্জনের জন্য সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া বৈষম্য কমাতে নির্দিষ্ট উচ্চ সীমার বেশি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের ওপর কর আরোপ এবং জমি নিবন্ধনে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের বিষয়গুলো সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা উচিত।

তরুণদের জন্য আধুনিক সেবা খাত ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এলডিসি উত্তরণের পর পেটেন্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি লড়াই বা লিটিগেশন মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিতে হবে। ভারতসহ অন্যান্য গন্তব্যে রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনা গেলে অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন ড. রাজ্জাক। তবে সব ক্ষেত্রেই সংস্কারের বাস্তব অগ্রগতি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি।

সব খবর
শিরোনাম :
টানা ৯০ দিন জামাতে নামাজ কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি ও বৈষম্য অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি সৌদি ও কাতারে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র সোনারগাঁয়ে রাসায়নিকবাহী কাভার্ড ভ্যানে আগুন এক রাতেই তিন দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জনপদ রিয়াদের আরামকো তেল শোধনাগারে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এনসিটির পর সিসিটি পরিচালনায়ও বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া নতুন সাইবার আইনে হাসিনার পথেই হাঁটছে সরকার: হাসনাত কাইয়ূম মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরী ও সেনা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ঝড় ও বন্যা যুদ্ধ-অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় আমাদের নেই: তথ্যমন্ত্রী সীমান্তে নিরাপত্তা ঘটনায়: ভারতীয় কূটনীতিককে তলব পাকিস্তানের মেজর আক্তারুজ্জামান সম্পর্কে পিপির মন্তব্যে জামায়াতের তীব্র নিন্দা জার্মানির ঐক্যের ৩৬ বছর: উগ্র ডানপন্থার উত্থানে নতুন সংশয় আফ্রিকার সংকটে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান সিসির মুক্তিযোদ্ধাদের শেষ বিদায়ের সম্মানে ৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা টঙ্গীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তদন্ত শুরু মায়ের অনুপ্রেরণায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা রাজশাহী মাঠে গাজীপুরে মেট্রিক্স স্টাইল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, উদ্ধার ৬৭ শ্রমিক মাল্টার আকাশছোঁয়া দাম: আমদানিকারকদের এলসি খোলার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর টানা ৯০ দিন জামাতে নামাজ কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি ও বৈষম্য অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি সৌদি ও কাতারে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র সোনারগাঁয়ে রাসায়নিকবাহী কাভার্ড ভ্যানে আগুন এক রাতেই তিন দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জনপদ রিয়াদের আরামকো তেল শোধনাগারে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এনসিটির পর সিসিটি পরিচালনায়ও বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া নতুন সাইবার আইনে হাসিনার পথেই হাঁটছে সরকার: হাসনাত কাইয়ূম মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরী ও সেনা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ঝড় ও বন্যা যুদ্ধ-অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় আমাদের নেই: তথ্যমন্ত্রী সীমান্তে নিরাপত্তা ঘটনায়: ভারতীয় কূটনীতিককে তলব পাকিস্তানের মেজর আক্তারুজ্জামান সম্পর্কে পিপির মন্তব্যে জামায়াতের তীব্র নিন্দা জার্মানির ঐক্যের ৩৬ বছর: উগ্র ডানপন্থার উত্থানে নতুন সংশয় আফ্রিকার সংকটে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান সিসির মুক্তিযোদ্ধাদের শেষ বিদায়ের সম্মানে ৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা টঙ্গীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তদন্ত শুরু মায়ের অনুপ্রেরণায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা রাজশাহী মাঠে গাজীপুরে মেট্রিক্স স্টাইল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, উদ্ধার ৬৭ শ্রমিক মাল্টার আকাশছোঁয়া দাম: আমদানিকারকদের এলসি খোলার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর