ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ার পর অনেকেই ভয়ে ফল খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। ধারণা করা হয়, ফলের মিষ্টি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যমতে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল পুরোপুরি বর্জন করার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত ও সঠিক উপায়ে গোটা ফল খাওয়া একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ। মনে রাখা জরুরি যে, কোনো নির্দিষ্ট ফল একাই রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না; বরং রোগীর সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ওজন, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং রোগের ধরনের ওপর সবকিছু নির্ভর করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
গোটা ফলের পুষ্টি ও নিয়মাবলী
- গোটা ফলে পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ, ভিটামিন, খনিজ এবং উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। এই আঁশ রক্তে গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর করতে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, যা মিষ্টান্নের তুলনায় নিরাপদ বিকল্প।
- পেয়ারা, জাম, আপেল, কমলা, মাল্টা, পেঁপে, নাশপাতি ও বিভিন্ন বেরি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে, জামবীজের গুঁড়া বা পাতার চা ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
- কলা, আম, কাঁঠাল বা লিচুর মতো তুলনামূলক মিষ্টি ফল একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। কলার ক্ষেত্রে এটি যত পাকা হয়, কার্বোহাইড্রেট শোষণের হার তত বাড়ে।
ফল খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফলের পরিবর্তে ফলের জুস এড়িয়ে চলা। জুস বা স্মুদি পান করলে অল্প সময়ে শরীরে বেশি চিনি প্রবেশ করে এবং ফলের আঁশ থেকে প্রাপ্ত সুবিধা কমে যায়। তাই জুস নয়, বরং গোটা ফল খাওয়ার ওপর জোর দিতে হবে। মৌসুমি ও দেশি ফলকে খাদ্যতালিকায় অগ্রাধিকার দিন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কোনো জাদুকরি খাবার নেই; সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সমন্বয়ই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। ভয় পেয়ে ফল বাদ দেওয়ার চেয়ে পরিমাণ বুঝে সঠিক নিয়ম মেনে ফল খাওয়াই শ্রেয়।














