নওগাঁর মহাদেবপুরে পাইলসের অপারেশনের পর নাছিমা খাতুন নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, অপারেশনের পর থেকেই নাছিমার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।
নিহত নাছিমা খাতুন মহাদেবপুর উপজেলার উত্তর গ্রামের চকগড়া এলাকার রেজাউলের স্ত্রী।
স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর পাইলস বা অর্শ রোগের অপারেশনের জন্য নাছিমা খাতুনকে মহাদেবপুরের আল মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ১২ হাজার টাকা চুক্তিতে তার অপারেশন করেন চিকিৎসক ডা. দেওয়ান আব্দুস সবুর।
নাছিমার স্বজন জাকারিয়া জানান, ক্লিনিকে ভর্তির সময় তার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। পরে তাকে রক্ত দেওয়ার পর অপারেশন করা হয়। তবে অপারেশনের পর থেকেই নাছিমার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। একপর্যায়ে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে এবং ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।
নাছিমার মৃত্যুর পর ক্লিনিক মালিকপক্ষের সঙ্গে স্বজনদের একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সমঝোতার আর্থিক পরিমাণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। স্থানীয়ভাবে ৩০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলে গুঞ্জন থাকলেও এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর যথাযথ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা না পাওয়ার কারণেই নাছিমার অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে চিকিৎসকের অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।
একজন নারী, একজন স্ত্রী, একটি পরিবারের আপনজন—নাছিমা খাতুনের এভাবে চলে যাওয়া তার স্বজনদের জন্য গভীর শোকের। স্বজনদের অভিযোগ সত্য হলে, চিকিৎসাসেবায় অবহেলা বা গাফিলতির বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চিকিৎসা মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য; সেখানে সামান্য অবহেলাও কখনো কখনো একটি পরিবারকে চিরদিনের জন্য শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিতে পারে। নাছিমা খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্বজন ও এলাকাবাসীর।










