সিরাজগঞ্জে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং। ফলে অসহনীয় গরমে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একদিকে বৈদ্যুতিক পাখার ওপর নির্ভরশীলতা থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে তালপাতার তৈরি সনাতন হাতপাখা। তবে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে ভ্যাপসা গরমে খেটে খাওয়া মানুষদের হাঁসফাঁস, প্রাণিকুলেও ত্রাহিত্রাহি অবস্থা। প্রচন্ড গরম ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে সিরাজগঞ্জের নাগরিক জীবন বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছে।
তাড়াশ আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত এই তাপদাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এই ভ্যাপসা গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে মানুষ ডাব, বাঙ্গি এবং ঠান্ডা পানীয়র ওপর ঝুঁকছেন। ফলে এই জাতীয় পণ্যের চাহিদার সাথে সাথে দামও বেড়েছে। কিছুদিন আগেও এক গ্লাস আখের রসের দাম ছিল ১০ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ ২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কয়েক দিন আগেও ১ গ্লাস আখের রসের দাম ছিলো ১০ টাকা এখন তা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। এই গরম একটু স্বস্তির আশায় ডাব, বাঙ্গি, ঠান্ডা শরবত বা পানি দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণের চেষ্টা করছে মানুষ। আর গরমের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য গ্রাম এলাকার মানুষেরা একটু স্বস্তি পাওয়ার জন্য নামছে ডোবা, নালা, পাগাড়ের পানিতে।
শহরের বাহিরগোলা বাজার, বউ বাজার, স্টেশন রোড ও বড় বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় হাতপাখা বিক্রির ধুম পড়েছে। বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, আগে যে হাতপাখা ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বাবলা সাহা নামে এক ব্যবসায়ী, যিনি ১০-১২ বছর ধরে এই পেশায় জড়িত, তিনি জানান যে গরমের শুরু থেকেই কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে এবং তিনিও প্রতি পিস পাখা ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। বর্তমানে প্রতিটি বাসা-বাড়িতে রয়েছে বৈদ্যুতিক পাখা।
ক্রেতারা বলছেন, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ঘরের বৈদ্যুতিক পাখা অকেজো হয়ে পড়ছে। হাফিজ উদ্দিন (৬২) নামের একজন ক্রেতা জানান, লোডশেডিংয়ের সময় হাতপাখা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। একইভাবে শাহীন আলম ও কহিনুর বেগম নামে দুই বাসিন্দা জানান, তারা ১০০ টাকায় দুটি তালপাতার পাখা কিনেছেন। বিদ্যুতের অনিশ্চয়তায় গরমে হাতপাখার বাতাসই এখন তাদের প্রধান স্বস্তি। পাখা ক্রেতা হাফিজ উদ্দিন (৬২) বলেন, হাতপাখা সবসময় পাওয়া যায় না, তাই একটা কিনলাম। তোমার হাতপাখার বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে আসে, কিছু সময় আরো তুমি থাকো আমার পাশে…..এক সময়ের এই জনপ্রিয় গানের মতো ছিল বিদ্যুৎবিহীন বাংলার গ্রামীণ জীবনে চিত্র।













