পরিবেশের সুরক্ষায় প্রতিটি বিদ্যালয়কে পলিথিন ও প্লাস্টিকমুক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বুধবার বিকেলে খুলনা শহরের সিএসএস আভা সেন্টারে ষষ্ঠ বার্ষিক উপকূলীয় শিশু জলবায়ু সম্মেলনের সমাপনী পর্বে তিনি এ কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস) ও উপকূলীয় শিশু ফোরাম। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী কোমলমতি শিশুদের স্কুল থেকেই প্লাস্টিক ও পলিথিনবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, চারপাশের পরিবেশ আজ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে এবং এখনই এর লাগাম টেনে ধরা দরকার। সুন্দরবনে প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি পলিথিন বর্জনের পাশাপাশি সবাইকে পাট ও কাপড়ের তৈরি বিকল্প ব্যাগ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ার পরামর্শ দেন। তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, কেবল মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়া কিংবা কোনো প্রকল্প প্রদর্শন করাই যথেষ্ট নয়, বরং নিজেদের প্রাত্যহিক জীবনেও পরিবেশবান্ধব আচরণ ফুটিয়ে তুলতে হবে। নিজেরা পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিয়ে আবার নিজেরাই পলিথিন ব্যবহার করলে সেই অঙ্গীকার অর্থহীন হয়ে পড়ে।
উপকূলীয় অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে গ্রামের মানুষ পুকুরের পানি পান করলেও এখন দূষণ ও রোগ-জীবাণুর কারণে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুকুরগুলোকে দূষণমুক্ত রেখে নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পরিমাণ বাড়াতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে সরকার ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের ইটভাটাগুলোর দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ইটভাটা সচল রয়েছে। এর মধ্যে আইন মেনে চলছে মাত্র ১ হাজার ৭০০টি এবং অবশিষ্টগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। এসব ইটভাটা পরীক্ষা করে কোনগুলো বৈধ হওয়ার যোগ্য, কোনগুলোকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে আর কোনগুলো বন্ধ করা প্রয়োজন, তা নির্ধারণে কাজ চলছে। ইটভাটা কেবল বায়ুই দূষিত করছে না, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগও ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ কারণে পর্যায়ক্রমে পোড়ানো ইটের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। স্থানীয় সরকারের কোনো প্রকল্পে অপ্রয়োজনে পোড়ানো ইট ব্যবহার করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সামাল দিতে প্রতিমন্ত্রী প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দেন। তিনি নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ ব্যবহার, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি, আধুনিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ এবং খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া শিশুদের পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কেবল পুরস্কৃত হওয়াই সব নয়; এই সম্মেলন থেকে পাওয়া পরিবেশ সচেতনতা নিজেদের পরিবার ও উপকূলীয় এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়াই হবে প্রকৃত সাফল্য।
জেজেএসের নির্বাহী পরিচালক ও সম্মেলন সমন্বয়ক এ টি এম জাকির হোসাইনের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন শেষ হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, কনসার্ন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনীশ কুমার আগরওয়াল এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজমুস সাদাত। শেষ পর্বে শিশু ফোরামের পক্ষ থেকে নূর আহমাদ জিদান ও নওশিন ইসলাম সবাইকে ধন্যবাদ জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ইটভাটার কারণে শুধু বায়ুদূষণই হচ্ছে না, কৃষিজমির উর্বর মাটিও নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাজারে যাওয়ার সময় পলিথিনের পরিবর্তে কাপড় বা পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিশুদের নেতৃত্বেই পরিবেশ রক্ষার সামাজিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী হতে পারে।











