ইউরোপের দেশ সার্বিয়া ও বুলগেরিয়া এবং লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল—এই তিন দেশে আজ রোববার গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশগুলোর ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণে এই নির্বাচনগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্রাজিল: প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে মুখোমুখি বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।
প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নির্বাচন দ্বিতীয় পর্যায়ে গড়িয়েছে।
চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়ছেন ৮১ বছর পূর্ণ করতে যাওয়া লুলা, যার জন্য এটিই শেষ নির্বাচনী লড়াই হতে পারে। আগামী সপ্তাহে তাঁর বয়স ৮১ বছর হবে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অপরদিকে অপরাধ দমন ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নেমেছেন ফ্লাভিও। লুলার সরকারের বিরুদ্ধে খাদ্যদ্রব্যের উচ্চমূল্য ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে জইর বলসোনারো অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলায় ২৭ বছরের সাজা নিয়ে গৃহবন্দী থাকায়, ফ্লাভিও নির্বাচিত হলে বাবাকে মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, সরকারের সামাজিক কর্মসূচি দরিদ্র মানুষের জন্য বড় সহায়তা। ২০২২ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলায় জইর বলসোনারোর ২৭ বছরের সাজা হয়েছে। নতুন মহাসড়ক, রেলপথ, স্কুল ও হাসপাতাল নির্মিত হয়েছে।
সার্বিয়া: পার্লামেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
সার্বিয়ায় আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন। এক দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা আলেকসান্দার ভুসিচের জন্য এটি বড় অগ্নিপরীক্ষা। বিশেষ করে ২০২৪ সালে নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর থেকে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার। ২০২৪ সালে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নোভি সাদে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। সরকারবিরোধী এ আন্দোলনে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানানো হয়। সার্বিয়ায় নির্বাচনে কি দীর্ঘদিনের শাসক আলেকসান্দার ভুচিস তরুণদের বিক্ষোভে হারতে বসেছেন।
- নির্বাচনের ধরন: আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন
- শিক্ষার্থীদের সমর্থিত প্রার্থী: ২৫০ জন
- শিক্ষার্থীদের দাবি: দুর্নীতি বন্ধ ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি
- ভুসিচের প্রতিশ্রুতি: অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি
- ভোটদানের সময়: সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা
শিক্ষার্থীদের সমর্থিত প্রার্থীদের তালিকায় হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ইলিজা সারদানোভিচসহ বিভিন্ন পেশাজীবী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বর্তমান শাসকদল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির সাথে তাঁদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস রয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অভিনেতা, কৃষকের মতো বিভিন্ন পেশার মানুষ আছেন।
বুলগেরিয়া: প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই
বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই গিউরভ।
- জনমত জরিপ: ইয়োতোভা ৪১ শতাংশ ও গিউরভ ২৮ শতাংশ সমর্থন
- ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব: কৃষ্ণসাগরের বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলায় প্রায় দুই ডজন নাবিকের মৃত্যু নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে
- গিউরভের অবস্থান: কিয়েভের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার পক্ষে
- ইয়োতোভার অবস্থান: যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে
বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও, এবারের নির্বাচনে ইউক্রেন যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো প্রধান্য পেয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোট শুরু হয়েছে যা রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে আগামী ১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইয়োতোভা জয়ী হলে তিনিই হবেন বুলগেরিয়ার সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। আগামী চার বছর দেশটি বামপন্থী নেতৃত্বে থাকবে, নাকি ডানপন্থীদের হাতে ক্ষমতা ফিরবে, তা নির্ধারিত হবে আজকের ভোটে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- শিক্ষার্থীদের সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হলে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বলকান দেশটির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
- আলফা রিসার্চের জনমত জরিপে ইয়োতোভা ৪১ শতাংশ ও গিউরভ ২৮ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। ইয়োতোভাকে সমর্থন দিচ্ছেন রাদেভ। অন্যদিকে পশ্চিমাপন্থী ও সংস্কারপন্থী দলগুলো গিউরভের পাশে রয়েছে।

















