জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের জাতীয় স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরোধী নন, বরং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বুয়েটের ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আবরার ফাহাদ: দিল্লি আধিপত্যবাদ প্রসঙ্গ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
আসিফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতিকে কেবল মুখে বলা বা বিবৃতির মধ্যে আটকে রাখলে চলবে না। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থের পক্ষে এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অন্য দেশের সঙ্গে যেকোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি যদি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হয় এবং তাতে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি না থাকে, তবে তা করতে কোনো আপত্তি নেই। তবে দেশের ক্ষতি বা স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তি বা সম্পর্ক গড়া যাবে না। এই প্রসঙ্গে আবরার ফাহাদের দেওয়া ‘আট স্তম্ভ’-এর ধারণা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও গণপ্রতিরোধের মতো বিষয়গুলো কার্যকর করা গেলে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় সাফল্য আসবে।
একই সভায় অংশ নিয়ে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি ও স্বার্থের পক্ষে অনড় অবস্থানের কারণেই আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছিল। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে আবরার এখন একটি বড় প্রতীক। আগামী দিনে তিস্তা ও গঙ্গাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণের তীব্র সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, সুরক্ষার দোহাই দিয়ে সীমান্তে নির্বিচারে দেশের মানুষকে গুলি করে মেরে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যেকোনো রাষ্ট্র বা প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং এ দেশের মানুষের কল্যাণ।

















