গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর ডলি আক্তার হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। প্রায় পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বিরোধ এবং পূর্বের দ্বন্দ্বের জেরে ডলি আক্তারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় গাজীপুর জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।
পিবিআই জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি আক্তার মো. মিশন ইসলামের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে পূর্বের বিরোধ ও বিয়ের বিষয়কে কেন্দ্র করে মিশনের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ডলিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন মিশন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মিশন ইসলামের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানা যায়, ডলিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে লুঙ্গি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে এবং বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর মরদেহটি চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মিশন বটি দা ও ব্লেড দিয়ে মরদেহটি কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করেন। এরপর মরদেহের একাংশ স্যুটকেসে এবং অপরাংশ বস্তায় ভরে বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনের সহযোগিতায় ভবানীপুর ব্রিজ এলাকার একটি খালে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানায় পিবিআই।
পচনশীল মরদেহ, পরিচয় শনাক্তে চ্যালেঞ্জ
পিবিআই জানায়, উদ্ধার করা মরদেহটি অজ্ঞাত ও পচনশীল হওয়ায় প্রথমদিকে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, ক্রাইমসিন পরীক্ষা, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ, গোয়েন্দা তথ্য এবং আসামিদের দেওয়া তথ্যের সমন্বয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হয়।
পিবিআই আরও জানায়, গ্রেপ্তার করা আসামিরা বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
‘অপরাধী যত কৌশলেই অপরাধ করুক, আইনের আওতায় আসতেই হবে’
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, লাশটি অজ্ঞাত ও পচনশীল হওয়ায় শুরুতে মৃতার পরিচয় শনাক্ত করা বেশ কঠিন ছিল। তবে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিশ্বস্ত সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে মৃতার পরিচয় শনাক্তসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, “অপরাধী যত কৌশলেই অপরাধ সংঘটিত করুক না কেন, পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব।”
পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।












