মাত্র ৭ পাউন্ড ওজনের চিহুয়াহুয়া জাতের একটি কুকুরছানা মেক্সিকোর সামরিক বাহিনী ‘ন্যাশনাল গার্ড’-এর অন্যতম আলোচিত সদস্য হয়ে উঠেছে। ১৩ মাস বয়সী এই খুদে সদস্যের নাম রাখা হয়েছে ‘কমান্ডো’। আকারে খুবই ছোট হলেও সে দায়িত্বের দিক থেকে কোনো অংশে কম নয়। তাকে রীতিমতো পেশাদার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে। তার পরনে থাকে মাপমতো তৈরি সামরিক ভেস্ট, হেলমেট এবং চোখে বিশেষ গগলস। এমনকি তার হেলমেটের ওপর একটি ক্ষুদ্র ক্যামেরাও বসানো থাকে।
সামরিক বাহিনীর সাধারণত শক্তিশালী ও বড় জাতের কুকুরের আধিক্য থাকে। মেক্সিকোর ন্যাশনাল গার্ডের ৩৫০টি কুকুরের বহরে কমান্ডো তাই একেবারেই ব্যতিক্রম। সাধারণত জার্মান শেফার্ড বা ল্যাব্রাডর রিট্রিভারের মতো জাতগুলো যেখানে বাহিনীর মূল ভরসা, সেখানে ২১ সেন্টিমিটার বা ৮ ইঞ্চি উচ্চতার কমান্ডো এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সম্প্রতি মেক্সিকো সিটিতে ন্যাশনাল গার্ডের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ মহড়ায় ‘রোকো’ নামের বড় আকৃতির একটি প্রশিক্ষিত কুকুরের পাশাপাশি তাকে সিঁড়ি বেয়ে ও বাধা টপকে দারুণ দক্ষতা দেখাতে দেখা গেছে। এমনকি সে দেশটির স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডেও অংশ নিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ন্যাশনাল গার্ডের লেফটেন্যান্ট ডেবোরা হার্নান্দেজ জানান, কমান্ডো দুটি প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিয়েছে। প্রথমত, সামরিক অভিযানে শুধু বড় ও শক্তিশালী কুকুরই সক্ষম—এই প্রচলিত ধারণাটি ভুল প্রমাণ করেছে সে। দ্বিতীয়ত, সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের উষ্ণ সম্পর্কের বাধা দূর করতেও সে ভূমিকা রাখছে। হার্নান্দেজের মতে, কমান্ডোর উপস্থিতি মানুষকে বারবার মনে করিয়ে দেয় যে সামরিক পোশাকের আড়ালে বাহিনীর সদস্যরাও দিন শেষে আবেগপ্রবণ মানুষ।
বর্তমানে কমান্ডো শুধু মাঠপর্যায়ের অভিযানেই নয়, মেক্সিকোর বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বেসামরিক অনুষ্ঠান, বিদ্যালয়ের বিশেষ কার্যক্রম এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণাতেও নিয়মিত অংশ নিচ্ছে। চিহুয়াহুয়া জাতের কুকুর সাধারণত চঞ্চল স্বভাবের হয়, কিন্তু সামরিক অভিযানের জন্য এর আগে এদের কখনো উপযুক্ত মনে করা হতো না। সেই চিরাচরিত ধ্যানধারণাকে বদলে দিয়ে খুদে কমান্ডো এখন মেক্সিকোর সামরিক বাহিনীর গর্বের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

















